জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব অর্জন সমগ্র বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি অভূতপূর্ব গৌরবের বিষয় হলেও এই পদটি কোনো একক দেশের স্বার্থ বা সুবিধার জন্য ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এসব কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ ও বৈদেশিক সহায়তা বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান নগণ্য হলেও দেশটি মারাত্মকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু সংক্রান্ত বৈশ্বিক তহবিল ও অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধির কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদ’ নামে একটি বিশেষ অনুবিভাগ খোলা হয়েছে।
লিখিত উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অনুদান এবং স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে কীভাবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায় করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ঢাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ অর্জনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এবং বিশেষ তহবিল বা সুবিধা আনার বিষয়ে একটি সম্পূরক প্রশ্ন করেন।
এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমঞ্চে ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই মর্যাদাপূর্ণ পদ লাভ করা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য একটি অভূতপূর্ব গৌরবের অর্জন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মাত্র ১০ সপ্তাহের কঠিন আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে আসীন হয়ে কোনো একক বা বিশেষ দেশের স্বার্থে কাজ করার সুনির্দিষ্ট সুযোগ কম থাকে। স্পিকার যেমন পুরো জাতীয় সংসদের সব সদস্যের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখেন, তেমনি সাধারণ পরিষদের সভাপতিকেও সব সদস্য রাষ্ট্রকে সমান মর্যাদা দিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে।
এদিকে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া এবং এর সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মুসলিম সমাজের সুরক্ষার জন্য একটি ইতিবাচক ও কাঠামোগত ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব বা অভিপ্রায় এলে সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে সেটি মূল্যায়ন করবে।
পররাষ্ট্রনীতির কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের সার্বিক ঐক্যের এই ভূ-রাজনৈতিক উদ্যোগটি সম্পূর্ণভাবে মুসলিম পরিবারের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এ নিয়ে অন্যান্য দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।