নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিখোঁজদের অনেকে মারা গেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দেশটির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সরকার। বুধবার (২৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের জনগণ মর্মাহত ও শোকাহত।’ পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে অনুসরণ করছে বলেও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে পর্যটকরাও রয়েছেন এবং তাদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালের এই কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ দেশটির সরকার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ সরকার নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতের আশা প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ত্রাণ ও উদ্ধার প্রচেষ্টায় যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা দিতে বাংলাদেশ নেপালের পাশে প্রস্তুত রয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও সম্প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য স্থান ও পদ্ধতি নিয়ে ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি তাকে হত্যার জন্য এক কোটি ডলার পুরস্কারের কথাও বলা হয়েছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নজরে এসেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং সিএনএনকে বলেন, ‘ভিডিওটি সম্পর্কে আমরা অবগত। আমাদের সুরক্ষাধীন যেকোনো ব্যক্তির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন সব বিষয় আমরা তদন্ত করি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় না।’ প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটির শুরুতে ইংরেজিতে একটি গ্রাফিক দেখানো হয়—‘হোয়্যার টু কিল ব্যারন ট্রাম্প?’ অর্থাৎ ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় হত্যা করা হবে। এরপর ব্যারন যেসব জায়গায় প্রকাশ্যে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়, সেসব স্থানের গ্রাফিক দেখানো হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারও রয়েছে। ভিডিওর শেষে বর্ণনাকারী বলেন, মানুষ এক কোটি ডলারের পুরস্কার পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সপ্তাহান্তে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) ভিডিওটি প্রচার করে। সংস্থাটি দেশটির কট্টরপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে বিবেচিত হয় এবং এর প্রধানকে সরাসরি নিয়োগ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। একজন মার্কিন ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ভিডিওটি ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইরান থেকে প্রকাশিত ধারাবাহিক ভিডিওর অংশ। এসব ভিডিওতে প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্যদের চলাচলের তথ্য এবং হত্যার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সিক্রেট সার্ভিস, অন্যান্য সরকারি সংস্থা, স্থানীয় পুলিশ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া নিরাপত্তা তথ্যের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে নিজের জীবন নিয়ে ইরানের হুমকির কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যেকোনো তালিকায় আছি... এখন পর্যন্ত হয়তো কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম, কিন্তু সেটা হয়তো বেশি দিন থাকবে না। এরা দুষ্ট ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষ।’ ওই মন্তব্যের আগে ইরানের হুমকির কারণে ট্রাম্পের একটি গোপন সফর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। হুমকির পর বিকল্প সামরিক বিমানে তাঁকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বারবার সতর্ক করে আসছে যে, ইরান ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করতে পারে। চলতি বছরের জুলাইয়ে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আয়োজিত শোকসভায় ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে পোস্টার প্রদর্শন করা হয়। এমনকি সেখানে তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া নিশ্চিত করতে অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাও প্রচার পায়।
চীন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং বিশ্বের প্রধান উন্নয়নশীল দেশ ও উদীয়মান অর্থনীতির প্রতিনিধি। দুই দেশের সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন উভয় দেশের জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের কার্যালয়ের পরিচালক ওয়াং ই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেইজিংয়ে চীন-ভারত সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা আলোচনা করেন ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল। ওয়াং ই বলেন, চীন-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব দ্বিপক্ষীয় পরিসর ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ও কৌশলগত তাৎপর্য বহন করে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাজান ও থিয়েনচিনে দুবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। ওয়াং ই বলেন, চীন কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে, মতপার্থক্য দূর করতে এবং বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক। দুই দেশকে সুপ্রতিবেশী, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলে সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রয়েছে। ওয়াং ই বলেন, দুই পক্ষের উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে সীমান্ত ইস্যুকে যথাযথ অবস্থানে রাখা। চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সংলাপ, শান্তি, আলোচনা ও সহযোগিতা প্রধান ধারা হয়ে উঠবে। দোভাল বলেন, ভারত ও চীন—দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতা, বিপুল জনসংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারী। তাই দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত, প্রতিযোগী হিসেবে নয়। দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও দূরদর্শী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা জনগণের অভিন্ন স্বার্থের পাশাপাশি এশিয়া ও বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চীন সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরেছে। সীমান্ত এলাকায় সামগ্রিক শান্তি বজায় রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। দোভাল যোগ করেন, সীমান্ত এলাকা কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং সীমান্ত ইস্যুর সমাধানের পথ অনুসন্ধানে চীনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক ভারত। বৈঠকে দুই পক্ষ সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে গভীর মতবিনিময় করে। ২০০৫ সালে গৃহীত রাজনৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে দুই পক্ষ। এ ছাড়া, ২০২৭ সালে ভারতে চীন-ভারত সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৬তম বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে তারা। সূত্র: সিএমজি
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য। ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে। সূত্র: রয়টার্স
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দী অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং তার ওপর চলা নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি ইমরান খানের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারকে প্রকাশ্যে ও সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জেমিমা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান চরম শাস্তির শিকার হচ্ছেন। দুর্নীতির মামলায় ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) এই শীর্ষ নেতা। এক্সে দেওয়া পোস্টে জেমিমা লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্য আর কতদিন চুপ থাকবে? তিন বছর ধরে আমার দুই ছেলের বাবা এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। জাতিসংঘের ভাষ্যমতে এটি চরম নির্যাতনের শামিল, যা এখন তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী প্রভাব ফেলছে।’ ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে জেমিমা বলেন, গত প্রায় ১০ মাস ধরে পরিবারের কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বই পড়া, আইনজীবী ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও তাকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা নীতিমালা’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, কোনো বন্দীকে টানা ১৫ দিনের বেশি নির্জন কারাবাসে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং তা নির্যাতনের আওতায় পড়ে। অথচ ইমরান খান বিগত তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘মানবাধিকার সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন। এদিকে সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর এবং আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সরকার সেই নির্দেশনা অমান্য করে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিমস) ভর্তি করে। আদালতের এই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করেছে পিটিআই, যা এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। ইমরান খানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সংযোগের কথা তুলে ধরে জেমিমা জানান, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও সেখানকার ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। এ ছাড়া তিনি পাকিস্তানে একটি দাতব্য ক্যানসার হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। জেমিমা ও ইমরানের দুই ছেলে সোলাইমান ও কাশিম ব্রিটিশ নাগরিক হলেও বাবার অসুস্থতার সময়ে তারা পাকিস্তানে যেতে পারছেন না। তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাকিস্তান একটি কমনওয়েলথভুক্ত দেশ উল্লেখ করে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি জেমিমা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যকে এখন প্রকাশ্যে এবং স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। পাকিস্তানের নিজস্ব সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলা, ইমরান খানের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি নির্জন কারাবাসের অবসান এবং তার মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার দাবি জানাতে হবে।’