নেপালের ভোটেকোশি জেলায় শক্তিশালী আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। বন্যার পানির প্রচণ্ড স্রোতে মরদেহগুলো ভেসে দূরের বিভিন্ন জেলায় চলে যাওয়ায় সেগুলো উদ্ধারে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন জেলার মর্গেও জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভোটেকোশি নদীতে গত বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার অনেক মানুষের মরদেহ নদীর ভাটির অঞ্চল চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপারাসি ও অন্যান্য এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপারাসির মর্গগুলোর জায়গা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ফলে কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চিতওয়ানের হাসপাতালের মর্গও মরদেহে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেখানে অস্থায়ী মর্গ তৈরি করা হচ্ছে। অন্য জেলা থেকে মরদেহ আসতে থাকায় পোখরার হাসপাতালের মর্গেও জায়গা ফুরিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চিতওয়ানে ত্রিশূলি ও নারায়ণি নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবারও সেখানে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে।
চিতওয়ান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মর্গে সাধারণত ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বর্তমানে তৈরি করা অস্থায়ী মর্গে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব হবে।
চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার মানুষ সেখানে ছুটে আসছেন স্বজনদের খোঁজে। মরদেহ শনাক্ত ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজও চলছে।
নেপালের ভয়াবহ এই বন্যায় বিপুল প্রাণহানির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নদীর তীব্র স্রোতে মরদেহ দূর-দূরান্তে ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও পরিচয় শনাক্তের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।