দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে ইন্টার্নশিপ ও হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগ বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী স্নাতক তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বাস্তবায়নাধীন হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উপাচার্যদের সংলাপের প্রথম দিনে উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সেশনে এসব কথা বলেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, প্রযুক্তি, ভাষা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা বাড়াতে কর্মসংস্থানমুখী স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করা যেতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। এজন্য শিক্ষাক্রমে মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন বিষয়বস্তু যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উচ্চ মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ছাড়া দেশের অগ্রগতি টেকসই হবে না। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সমতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর্থসামাজিক অবস্থা, লিঙ্গ বা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বর্তমান সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী স্নাতক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, প্রযুক্তি, ভাষা, সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা বাড়াতে কর্মসংস্থানমুখী স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালু করা যেতে পারে। মতবিনিময় সেশনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ অংশ নেন। এ সময় জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহসহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইউজিসি সদস্য এবং উচ্চশিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউজিসি জানায়, দুই দিনব্যাপী এ সংলাপে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, সুশাসন, গবেষণা ও উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, আন্তর্জাতিকীকরণ, শিল্পখাতের সঙ্গে সহযোগিতা এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন। ডিইডি/এমবি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন বলেছেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ার কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জার্মানির নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিলে শেখ হাসিনাকে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতে যেতে হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইমরুল কায়েসের লেখা ‘তারেক রহমান: নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ প্রচার’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে একটি ‘কালো মেঘে আচ্ছন্ন সময়ের’ চিত্র দেখা যায়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও মানুষের মনোজগতে ভিন্ন ধরনের রং ও আভা দেখা গেছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে একটি সময়ে রাজনীতি ও প্রচার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাঁকে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য করা হয় এবং দেশের মানুষ যাতে তাঁর বক্তব্য বা তাঁর সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে না পারে, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান কেন নিষিদ্ধ ছিলেন, কেন তাঁর প্রচার নিষিদ্ধ ছিল—সেটি নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তাঁর এমন কী বক্তব্য ছিল, যা তৎকালীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার জন্য নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন হয়েছিল? তাঁকে জনগণ থেকে আড়াল করে রাখা কি সম্ভব হয়েছিল?’ তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ সময়ের জন্য কাউকে বা কোনো মতকে দমন করতে পারে। কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্তও করা যায়। কিন্তু সব সময়ের জন্য সব মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব নয়। জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, ক্ষমতার মসনদে বসলে অনেকের মধ্যে নিষিদ্ধ করার এক ধরনের নেশা তৈরি হয়। হত্যা, গুম, দমন-পীড়ন এবং মানুষকে কথা বলতে না দেওয়ার মতো প্রবণতা তৈরি হয়। কখনো কখনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতাকে আদর্শের আবরণে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। হিটলারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জার্মান সমাজে কৃত্রিমভাবে নানা শত্রু তৈরি করে জনগণকে বিভক্ত করা হয়েছিল। একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে উগ্র সমর্থকগোষ্ঠীতে পরিণত করে হিটলার শেষ পর্যন্ত আত্মধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস থেকে শিক্ষা আমরা নিতে পেরেছি কি না, তার প্রমাণ হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যে শিক্ষা নেননি, তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তাঁর হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যেই স্পষ্ট হয়েছে।’ স্বপন আরও বলেন, শেখ হাসিনা যদি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতেন, তাহলে তাঁকে জনগণের সম্মতি ও ম্যান্ডেটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী থেকে বিরোধীদলীয় নেতা এবং আবার বিরোধীদলীয় নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করতে হতো। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা নেননি বলেই তাঁকে দেশের সীমানার বাইরে পালিয়ে যেতে হয়েছে। হাসিনা হিটলারের কাছ থেকে শিক্ষা নিলে তাঁকে ভারতে দৌড়াতে হতো না।’ বইটি শুধু তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে লেখা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি নির্দিষ্ট মনোজগত ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার ইতিহাসও তুলে ধরে। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জনগণের সম্মিলিত অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘদিন দমন করে রাখা যায় না। লেখক ইমরুল কায়েসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, তাঁর লেখা ছোট ছোট নিবন্ধগুলো একত্র করে প্রকাশিত এই বইটি পাঠকদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সময়কে তুলে ধরবে। বইটি মানুষের বিবেক ও ইতিহাসবোধকে আরও জাগ্রত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিজেপি চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই সরকারের শুরু থেকেই মন্ত্রিসভায় ছিলেন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এবার তাকে পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন রশিদ এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত পৌনে আটটার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর তাকে শপথ পাঠ করান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দোয়া পাঠের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ পাঠ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। এর আগে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বঙ্গভবনে আসেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দল মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। তাদের মধ্যে ভোট দেন ৩৪৩ জন। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে বঙ্গভবনে আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠেয় এই শপথ গ্রহণে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন দেশের পতাকাবাহী গাড়িতে কূটনীতিকদের বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরই মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথিদেরও আগমন শুরু হয়েছে। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে বঙ্গভবনের ভেতরে ও প্রবেশপথে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও আনসার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বঙ্গভবনের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান দেখতে বঙ্গভবনের আশপাশে উৎসুক মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কূটনীতিক ও অতিথিদের গাড়ি বঙ্গভবনে প্রবেশের সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান ঘিরে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে। আমন্ত্রিত অতিথিদের যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতির শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
মন্ত্রিসভায় নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।রাতে বঙ্গভবনে তাদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন চার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে দুজনের বিষয়ে জানতে পেরেছে ঢাকা এক্সপ্রোস। তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। এদিকে, আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ শেষে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। প্রায় ১৯ বছর পর গঠিত বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার আকার হয় ৫০ জনের। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আজ নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নিলে মন্ত্রিসভার আকার বাড়বে। টিকে
চূড়ান্ত হয়নি তারেক রহমানের ভারত সফর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবার তারেক রহমানের এক প্রেস সচিব ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর নয়াদিল্লিতে তারেক রহমানের প্রথম সফর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সেই টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতেই উভয়পক্ষের মাঝে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই নির্বাসনে রয়েছেন। তাকে ফেরত পাঠাতে ঢাকার পক্ষ থেকে বারবার নয়াদিল্লিকে অনুরোধ করা হলেও ভারত জানিয়েছে, তারা আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ রয়টার্সকে বলেছেন, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। এদিকে, গত মঙ্গলবার দিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই সফরের বিষয়ে মন্তব্য করার মতো নতুন কিছু তাদের কাছে নেই। সম্প্রতি দিল্লিতে এক অনলাইন ইভেন্টে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা বলেছে, সফরের জন্য আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মমভাবে দমনের নির্দেশ দেওয়ার দায়ে গত নভেম্বরে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স। টিকে