ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমানের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন চিকিৎসকরা। বুধবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ অটোল্যারিংগো সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক আহমদ সামি আল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ অটোল্যারিংগো সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক মাজহারুল শাহীন। সমাবেশে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আবুল কেনান, জাতীয় নাক, কান ও গলা রোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাসান জাফর রিফাতসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। বক্তারা বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সারাদেশে একের পর এক শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতি চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপরও এর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা আরও বলেন, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ এভাবে অব্যাহত থাকলে চিকিৎসকরা আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। চিকিৎসকরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে দেশের চিকিৎসাসেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। একই সঙ্গে অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। প্রতিবাদ সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক আহমদ সামি আল হাসান বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় দিন-রাত নিরলস দায়িত্ব পালন করেন। অথচ কর্মস্থলে তাঁদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অধ্যাপক আসাদুর রহমানের মতো একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ শিক্ষককে যেভাবে হামলার শিকার হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। একজন চিকিৎসক যদি কর্মস্থলে নিজের জীবনের সুরক্ষা না পান, তাহলে তিনি কীভাবে নির্ভয়ে রোগীকে সেবা দেবেন? এ ধরনের হামলা কেবল একজন চিকিৎসকের ওপর আঘাত নয়; এটি দেশের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও চিকিৎসাসেবার ওপর সরাসরি আঘাত। অধ্যাপক সামি জোর দিয়ে বলেন, অধ্যাপক আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করে কোনো হামলাকারীকে পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। চিকিৎসকরা এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর চড়াও হওয়ার সাহস না পায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে আয়োজন করা হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আমরা বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবো। দুপুর ২টা থেকে ভোট শুরু হবে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ উভয়ে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন শুরুর ৫ মিনিট আগে ভোটের লাইভ টেলিকাস্ট শুরু হবে।’ চিফ হুইপ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেতা এবং আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভোট দেওয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।’ তিনি আরও জানান, তাদের ভোট দেওয়া শেষ হলে পরের পুরো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া রেকর্ড করা হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আমরা আবারও লাইভ টেলিকাস্ট শুরু করব। এরপর ফলাফল ঘোষণাটিও সরাসরি দেখাব। আগামীকাল ইতিহাসের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে। গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।’ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন।’ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘তারেক রহমান আমাদের নেতা, তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। সেই সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। এখন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এবং বিরোধী দল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই।’ চিফ হুইপ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কীভাবে ভোটগ্রহণ হয়, এদেশের মানুষ সেটা আবারও প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। এর মাধ্যমে আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করব।’ ব্রিফিংয়ে হুইপ রুহুল কুদ্দস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জি কে গউছ, সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম আলিম, খন্দকার আবু আশফাক, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় ৪টা ৪০ মিনিটে। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত রয়েছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে। এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী হলেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টকে ‘‘অত্যন্ত রূঢ়’’ এবং ‘‘অহংকারী’’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। দেশটির বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের (এএনআই) সঙ্গে আলাপকালে সিক্রি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তারেক রহমানের দিল্লি সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে উভয় দেশের সরকার এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেখুন, আমার মনে হয় এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রেস নোট বা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত রূঢ় ও অহংকারী। এই ধরনের পরিস্থিতি একেবারেই অনভিপ্রেত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো খেলা খেলছে কি না জানি না। তবে ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে; তারিখ নিয়ে কথা হচ্ছে এবং প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আসবেন না; এমন কোনো বার্তা আমরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাইনি। বীণা সিক্রি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিকতার অভাবেরই প্রতিফলন। তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে দুটি আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে প্রেস বিবৃতি দেওয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্বের প্রতি এক ধরনের গুরুত্বহীনতা প্রকাশ করে। প্রথমত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাকে প্রথম আমন্ত্রণ জানান; যেখানে তাকে পরিবারসহ সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপাক্ষিক সফরে আসার আহ্বান জানানো হয়। কথা ছিল ভারতই হবে তার প্রথম সফরস্থল, কিন্তু ছয় মাস পার হয়ে গেলেও কোনো সাড়া মেলেনি। দ্বিতীয়ত, কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেক প্রধান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের পক্ষ থেকে তাকে দ্বিতীয় আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেটিতেও কোনো জবাব আসেনি। ভারতের সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে যুক্ত করা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও কূটনীতিবহির্ভূত। তিনি বলেন, প্রথমত, এটা সবাই জানে, এবং বাংলাদেশ সরকার অন্য সবার চেয়ে ভালো জানে, যে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া একটি আইনি প্রক্রিয়া। এবং এতে বছরের পর বছর সময় লাগে। এটা বছরের পর বছর চলতে পারে। আমরা দেখেছি, যেখানে আমরা লন্ডন এবং অন্যান্য জায়গায় প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছি। এতে বছরের পর বছর লেগে যায়, এবং তা এখনও সম্পন্ন হয় না। আর যখন এটি সম্পন্ন হয়, তখনও একটি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকে। তাহলে কি তারেক রহমান বলছেন, তিনি আগামী দুই থেকে তিন বছর ভারতে আসতে চান না? এটাই প্রশ্ন। ‘‘এখন হঠাৎ করে যখন দ্বিপাক্ষিক সফরের প্রস্তুতি চলছে এবং সফরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য খুব অল্প সময় আছে, সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষের দিকে, আমরা দেখছি যে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সম্ভবত চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে—তখনো কোনো সাড়া না দিয়ে এই ধরনের খেলা সামনে আনা হচ্ছে। হাস্যকর শব্দটি ব্যবহার না করলেও বলব, তারেক রহমানের সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা অপ্রয়োজনীয়, অ-কূটনৈতিক এবং একটি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যের সঙ্গেও মেলে না।’’ ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সিক্রি এসব মন্তব্য করেছেন। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ রাখছেন। আলোচনা চলমান থাকলেও গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এক প্রেস ইভেন্টে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি কূটনৈতিক উত্তেজনার দরুন কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি বলে ঢাকা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের হস্তান্তরের অনুরোধে ভারতকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। তবে ভারত সরকার শেখ হাসিনার ওই কর্মসূচির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে পরিষ্কার করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের আয়োজন ছিল এবং সেখানে বলা কোনো বক্তব্যের দায় ভারত সরকার নেবে না।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জনই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৭২৮ জনের শরীরে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭০ জন।