সামিহা সিরাজী লাজ : মানুষের জীবনের প্রথম বিদ্যালয় কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, একটি ঘর। আর সেই ঘরের প্রথম শিক্ষক—মা। তাঁর কাছেই শুরু হয় অক্ষর চেনার আগের সেই শিক্ষা, যা ধীরে ধীরে মানুষ হয়ে ওঠার ভিত গড়ে দেয়। মানুষের জীবনে প্রথম বিদ্যালয়ের নাম হয়তো কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; সেটি একটি ঘর। আর সেই ঘরের প্রথম শিক্ষক—মা। পৃথিবীর আলো দেখার পর যে মানুষটির মুখ আমরা প্রথম দেখি, যে কণ্ঠস্বর আমাদের প্রথম আশ্বস্ত করে, যে হাত ধরে আমরা প্রথম হাঁটতে শিখি তিনি শুধু আমাদের জন্মদাত্রী নন, তিনি আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক। পৃথিবীর আলো দেখার পর যে মুখটি আমরা প্রথম দেখি, যে কণ্ঠস্বরটি আমাদের অস্থিরতা থামায়, যে হাতটি ধরে আমরা প্রথম হাঁটতে শিখি সেই মানুষটিই ধীরে ধীরে আমাদের পৃথিবী চিনতে শেখান। মা শুধু আমাদের জন্ম দেন না; তিনি আমাদের চিন্তা করতে শেখান, অনুভব করতে শেখান, ভুল করতে শেখান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুলের পর আবার উঠে দাঁড়াতে শেখান। বর্ণমালার আগেই শুরু হয় যে শিক্ষা শিক্ষার শুরু আসলে বর্ণমালা দিয়ে নয়, শুরু হয় মায়ের স্পর্শ দিয়ে। মা-ই প্রথম শিখিয়েছিল কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে হাসতে হয়, কীভাবে পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। ‘অ’, ‘আ’, ‘ক’, ‘খ’ শেখার অনেক আগেই মা আমাকে শিখিয়েছিলো ভালোবাসার ভাষা, মমতার অর্থ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ। তাঁর ছোট ছোট কথার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের বড় বড় শিক্ষা। ভুল থেকে উঠে দাঁড়ানোর পাঠ একটি শিশু যখন প্রথমবার ভুল করে, মা তখন শুধু তাকে বকেন না; ভুল থেকে কীভাবে শিখতে হয়, সেটিও শেখান। যখন সে ব্যর্থ হয়, মা তাকে বোঝান ব্যর্থতা শেষ নয়। যখন সে ভয় পায়, মায়ের একটি আশ্বাস তাকে সাহসী করে তোলে। তাই মায়ের দেওয়া শিক্ষা কোনো পাঠ্যবইয়ের অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; তা ছড়িয়ে থাকে প্রতিদিনের জীবনযাপনে। যে পাঠশালার নেই কোনো ছুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমাদের জ্ঞান দেন, পৃথিবীকে চিনতে শেখান। কিন্তু সেই জ্ঞান গ্রহণের ভিত্তিটুকু তৈরি করে দেন মা। একজন শিক্ষক হয়তো নির্দিষ্ট সময়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন; মা সেখানে কোনো ঘণ্টার অপেক্ষা করেন না। তাঁর পাঠশালার সময়সীমা নেই, ছুটিও নেই। তাঁর শিক্ষা চলে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে খাবার টেবিলে, ঘুম পাড়ানোর সময়, অসুস্থতার রাতে, কিংবা আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়িয়ে। মানুষ হওয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষা মায়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত মানুষ হওয়ার শিক্ষা। তিনি শেখান অন্যের কষ্ট বুঝতে, ছোটকে ভালোবাসতে, বড়কে সম্মান করতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং নিজের ভুল স্বীকার করতে। অনেক সময় মা কোনো বই খুলে নৈতিকতার সংজ্ঞা পড়ান না; তাঁর নিজের জীবনই হয়ে ওঠে সেই নৈতিকতার জীবন্ত উদাহরণ। তাঁর ত্যাগ, ধৈর্য, সংগ্রাম এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা সন্তানের সামনে জীবনের এক অনন্য পাঠ হয়ে থাকে। তথ্যের ভিড়ে শিক্ষার আসল অর্থ আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে শিক্ষার সংজ্ঞাও বদলেছে। প্রযুক্তি আমাদের অসংখ্য তথ্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু তথ্য আর শিক্ষা এক নয়। তথ্য আমাদের জানায়, আর শিক্ষা আমাদের মানুষ করে। সেই মানুষ হয়ে ওঠার প্রথম যাত্রাটি শুরু হয় মায়ের কাছ থেকেই। শিক্ষক দিবসে প্রথম শিক্ষকের কথা তাই শিক্ষক দিবসে যখন আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জানাই, তখন শ্রদ্ধার তালিকার প্রথম সারিতে থাকা উচিত সেই মানুষটির নাম যিনি আমাদের প্রথম শব্দ শিখিয়েছেন, প্রথম স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন এবং সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ হতে শিখিয়েছেন। মা হয়তো কোনো বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, তাঁর হাতে হয়তো চক-ডাস্টার নেই, কোনো শ্রেণিকক্ষও নেই। তবু সন্তানের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে ভালোবাসায় লেখা পাঠটি তিনিই পড়ান। মা—আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম পাঠশালা এবং সারাজীবনের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষা।
আবুল খায়ের,ডিআইইউ প্রতিবিধি : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনটির দীর্ঘদিনের কর্মী সেলিম মাহমুদ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার দাবি করেছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। সহযোদ্ধাদের ভাষ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা, তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন, হরতালসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সেলিম মাহমুদ সক্রিয় ছিলেন। দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সময়, শ্রম ও মেধা দেওয়ার বিষয়টিও তাঁরা উল্লেখ করেন। তাঁদের দাবি, ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনের সময়ও তিনি রাজপথের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ওই সময়ে হামলায় আহত হয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় অচেতন ছিলেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের হরতাল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পল্লবী থানায় হওয়া একটি মামলায় সেলিম মাহমুদকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে তাঁর সহযোদ্ধারা জানান। মামলা ও হামলার মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন বলে তাঁদের দাবি। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সেলিম মাহমুদের সক্রিয়তার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের ভাষ্য, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক পরিস্থিতির পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক ও সমন্বয়ের কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়। পরদিন ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রামপুরা এলাকায় অবরোধ কর্মসূচিতেও তিনি ভূমিকা রাখেন বলে তাঁরা দাবি করেন। এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। সেলিম মাহমুদের অনুসারীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে মূল্যায়ন করা হবে। তাঁদের মতে, নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। তবে নতুন কমিটিতে কারা নেতৃত্বে আসবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে সেলিম মাহমুদের প্রার্থিতা ও তাঁর রাজনৈতিক-সাংগঠনিক ভূমিকার মূল্যায়নের বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এমবি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে৷ বিজ্ঞ জেলা নির্বাহী আলাদতে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার বাদী সাংবাদিক কালাম মুহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন৷ এর আগে তার ওপর হামলার ঘটনায় বাড্ডা থানায় এসব আসামীদের বিবাদী করে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়৷ জানা গেছে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে এমবিএ প্রোগ্রামের মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে। এছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—একই হলের বাধন, মুরাদ পাটোয়ারী, জোবায়ের পাটোয়ারী, প্রত্যয় ও মিনহাজকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামী করা হয়েছে৷ এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করে বাড্ডা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে৷ এদিকে এসব আসামীর বিরুদ্ধে লিখিত এবং ভিডিও জবানবন্দি দিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী৷ তারা জানিয়েছেন সেদিন মুরাদ এবং জোবায়ের পাটোয়ারীর ইন্ধনেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে৷ এদিকে, তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবনকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন প্লাবন। তবে তার সঙ্গে আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান। এ ছাড়া প্লাবন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন এবং ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের অভিযোগ রয়েছে৷ এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কালাম মুহাম্মদ বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়া এবং নিরাপত্তার আবেদন করার পরেও প্রক্টর আব্দুল কালাম আজাদ সাহেব আমার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ তার অদক্ষতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণেই ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এর নাম ভাঙ্গিয়ে হলে এই বিবাদীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা সময়ে অত্যাচার করে আসছেন৷ তিনি বলেন, আমরা ইনসাফ চাই৷ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তথা প্রক্টরের এই অদক্ষতায়ই আজকের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ পুরো বিষয়টি আমি আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো৷
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের রহস্যজনক মৃত্যুর পেছনে কিশোর গ্যাং সংগঠন 'গ্যাং থার্টি সিক্সের' প্রধান মাহিন অর রশিদ প্লাবনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ নাজমুজ ছাকিব। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। শুধু নাজমুজ ছাকিবই নয় রহস্যজনক ওই মৃত্যুতে এই কিশোর গ্যাং সংগঠন 'গ্যাং থার্টি সিক্সের' সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও৷ ফেসবুক পোস্টে এই শিবির নেতা বলেন, “ইইই এর মাহমুদ (মাহমুদুল হাসান) হত্যায় এই ছেলের হাত আছে কিনা তদন্তের দাবি রাখে। অবশ্যই, সাঁতার কুল এতো ইনসিকিউর হয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।” এ বিষয়ে সাইয়েদ নাজমুজ ছাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্প্রতি ডিআইইউর হলগুলো মাদকের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। এসব নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করলে মাহিন অর রশিদ প্লাবন সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অত্যন্ত দুর্বলতার দিক প্রকাশ পায়। ছাত্র শিবিরের এই নেতা বলেন, মাহমুদুল যখন রহস্যজনকভাবে নিহত হন, তখন প্লাবন তার সঙ্গে এক নম্বর হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তিনি এখন যেহেতু সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলে কথা আসছে, সেহেতু এই হত্যার সঙ্গে তার যোগসূত্র থাকা নিয়ে প্রশ্ন আসে। ছাকিব আরও বলেন, “আমি তাকে সরাসরি অপরাধী বলছি না। তবে বিষয়টি এতই গুরুতর যে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হুমকিদাতার ওই হত্যার সঙ্গে কোনো যোগসাজশ আছে কি না, প্রশাসনের তা খতিয়ে দেখা উচিত।” উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ২০২৫ তারিখে আনুমানিক রাত ১টার দিকে দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ১২৫ নম্বর পিলারে রক্তাক্ত অবস্থায় মাহমুদুল হাসানের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারে কোনো তদন্ত ও বিচার চান না। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে হত্যাকারীরা তার বাবাকেও হুমকিতে রাখতে পারেন৷ মাহমুদুল হাসান ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের (২য় শিফট) শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন ডিআইইউর ৬০তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী। এর আগে সে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটেয়ারীর আত্নীয় পরিচয় দিয়ে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করেছেন। এদিকে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরিতে প্লাবনসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে শোকজও করেছে। দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে আরও অভিযোগ রয়েছে, প্লাবন কিছু বিপথগামী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘিদিন। ওই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এই গ্যাংয়ে তিন নং হল ছাড়াও বিভিন্ন হলের ৩৬ জন সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র৷ জানতে চাইলে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও প্রক্টর আমাদের নিরাপত্তা দিতে পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে৷ এর দায় তাকে নিতেই হবে৷ সে যদি বিচার করতে না পারে তাহলে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে৷ কোন কাণ্ডজ্ঞানহীন, অদক্ষ কেও এই চেয়ারের উপযুক্ত নয়৷ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই বিষয়ে আমরা তদন্ত করতে পারবো না। মৌখিক তদন্ত চাইলে তো আর হবে না। এটা তো মার্ডার কেস, থানায় মামলা করতে হবে বা জিডি করতে হবে। এর তদন্ত করবে পুলিশ, আমরা শুধু অবহিত থাকবো।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন নামের এক শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে শোকজ প্রাপ্তির পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা তথা আজ বিকেল ৫টার মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে অভিযুক্তকে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি এবং প্রক্টরিয়াল বডির এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এদিকে, শোকজে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি ‘আপনার কোনো বক্তব্য নেই’ হিসেবে বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লিখিত জবাবে উক্ত ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য, ব্যাখ্যা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পশ্চিম অন্তরাম অংশের বাসিন্দা মো. মাহবুব অর রশিদ পলাশ এবং মোছা. মাহমুদা বেগমের সন্তান। সে বিশ্ববিদয়ালয়ের ৬০ তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী৷ যার রোল নং -৩৮৷ জানা গেছে, এর আগেও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন। অবশ্য তার আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নিজেই। দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্লাবন নামের এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপথগামী কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী পরিচালনা করে আসছেন। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর র্যাগিংয়ের একাধিক অভিযোগ এসেছে। এদিকে, এ ঘটনায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘আমার সহযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তার এই প্রাণনাশের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর হুমকিস্বরূপ।’ সাংবাদিক সমিতির এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা তার প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু নামকাওয়াস্তের এই শোকজ দিয়ে এই বিষয়ে কখনোই সুরাহা সম্ভব নয়। আমরা আইনগত বিষয়ে অগ্রসর হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য সাময়িক বহিষ্কার, হলের সিট বাতিল এবং জরিমানা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি পুরোপুরি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে।’
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আবাসিক ৩ নং হলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হলের অন্তত তিন শিক্ষার্থী সরাসরি স্থানীয় মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত। এমনকি এই চক্রের পেছনের কলকাঠি নাড়ার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের নামও উঠে এসেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ নং হল থেকে নিয়মিত ইয়াবা ও গাজাসহ বিভিন্ন মাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোতে সাপ্লাই দেওয়া হয়। অতীতে এই হল থেকেই ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও মেশিন উদ্ধার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে মূল কারিগররা বারবারই থেকে যাচ্ছে ধোঁয়াশার আড়ালে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি, হুমকি এবং র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়। ফলে ভয়ে তটস্থ থাকেন তারা। হলের অনিরাপদ ও আতঙ্কময় পরিবেশ থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে হল ছাড়তে হয়। হল ছেড়ে দেওয়া এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, "আমরা পড়ালেখার পরিবেশ আর নিরাপত্তার জন্য হলে এসেছিলাম। কিন্তু হলের ভেতরে কিছু ব্যক্তির মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা পুরো পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। প্রশাসন চেষ্টা করলেও মূল হোতাদের ধরতে পারে না। বাধ্য হয়ে নিজেদের সুরক্ষায় আমরা বাইরে মেসে চলে এসেছি। হলে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যখন অভিযান পরিচালনা করে, কিছুদিন পরিবেশ ভালো থাকে। কিন্তু কিছুদিন পর গোপনে আবার সেই অপকর্ম চালু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই চক্রকে দমন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৈবচয়নের ভিত্তিতে নিয়মিত বিরতিতে হলে অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে এবং জড়িতদের হাতেনাতে ধরতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একাধিকবার অভিযান ও তল্লাশি চালিয়েও চতুর এই মাদক চোরাচালান চক্রটির মূল হোতারা অধরাই রয়ে গেছে।
পদ্মা সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি বাস উল্টে শিশুসহ অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে মাগুরা থেকে ঢাকাগামী নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের বাসটি পদ্মা সেতুর ঢালে পৌঁছালে অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে বেশ কয়েকজন যাত্রী আটকা পড়েন। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে আহতদের ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করা হয়।