দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগে মো. মারুফ মুন্সি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে দশমিনা থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন-এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় তার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। এরপর বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে মারুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে লিখিতভাবে দিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে বিক্রির পর মারুফ দ্রুত ঢাকায় চলে যান। সন্তান দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে পুরোনো ফোন পরিবর্তন করে একটি নতুন আইফোন কেনেন তিনি। এ ঘটনায় এর আগে ‘লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের শিশুপুত্রকে বিক্রির অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছিল ঢাকা পোস্ট। দশমিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় আজ। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে আজকের দিন ধার্য করা হয়। গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে আসামিপক্ষে রয়েছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্র পক্ষে রয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। শিশু আছিয়ার নির্মম ঘটনাটি ঘটে মাগুরা সদর উপজেলায়। রমজানের ছুটিতে শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়। শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্য তালিকাভূক্ত হয়।
আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজনে ২০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করেছেন বিসিএস প্রশাসনের ২৫ তম ব্যাচের কর্মকর্তারা৷ রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে৷ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি একটি কঠিন কাজ৷ আপনি যদি সারাজীবন একশটি ভালো কাজ করেন মানুষ সেটি ভুলে যায়৷ কিন্তু ভুলক্রমে একটি খারাপ কাজ করলে মানুষ তার জন্য সারাজীবন মনে রাখে৷ তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারি কর্মকর্তারা রাজনীতিবিদদের চেয়েও জনগনের জন্য অনেক কাজ করতে পারে৷ আমি রাজনীতির অঙ্গনে বাধ্য হয়ে এসেছি৷ আমি চেষ্টা করছি সবসময় সঠিক কাজটি করার৷ প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, গত ১৮ বছর আমলাতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে৷ আমাদের কর্মকর্তাকে আওয়ামী, বিএনপি, জামায়াত ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে আমাদের ধ্বংস করা হয়েছে৷ সরকারের পট পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের কর্মকর্তাদের ওপর একটা নির্যাতন শুরু হয়৷ আমরা তো চাকরি করতে এসেছি৷ ফুটপাতে ঘুরে বেড়াতে নয়৷ এই নির্যাতন পেতে কেউ চাকরিতে আসিনি৷ তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই আমাদের মেধা শ্রম দিয়ে সব সরকারের সময় চাকরি করতে চেয়েছি৷ সরকার বিগত ১৮ বছর আমাদের প্রশাসনে বিভাজন সৃষ্টি করেছে৷ কিন্তু আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সব কিছুর উর্ধে গিয়ে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে৷ আমরা সেভাবেই চেষ্টা করছি৷ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ নুরজাহান খানম বলেন, “২৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে যে পারস্পরিক বন্ধন, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা রয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের নানা ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সহকর্মীদের প্রতি এই আন্তরিকতা ও বন্ধন অটুট থাকা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার বিশ্বাস, এই বন্ধন ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ় হবে এবং সবাই একে অন্যের পাশে থেকে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে এগিয়ে যাবেন। ২৫তম বিসিএসের সব কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের সভাপতি মো. সগীর হোসেন বলেন, “২৫তম বিসিএসের যেসব কর্মকর্তা এখনও বঞ্চিত রয়েছেন, তাদের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করবে বলে আমরা আশা করি। আমরা একটি নিগৃহীত ব্যাচ হিসেবে বিভিন্নভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছি। দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা কখনো দায়িত্ব পালনে পিছপা হইনি। বরং রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে প্রত্যেক কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের বঞ্চনার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যোগ্য ও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকার ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেবে।” বিসিএস (প্রশাসন) ২৫তম ব্যাচের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তারপরও আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র পিছুপা হইনি। সম্প্রতি আমাদের ব্যাচের বেশ কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতি হলেও ১০৫ জন কর্মকর্তা এখনও পদোন্নতি পাননি। আমরা তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাই। এর আগেও ২০১৮ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও আমরা বঞ্চিত হয়েছিলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, গণপূর্ত সচিব মো: ওবায়দুর রহমান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান মিয়া, ঢাকার জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়াসহ বিসিএস ২৫ সহ বিভিন্ন ব্যাচের কর্মকর্তারা৷ কেএমএম
জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলোই আমাদের শক্তির উৎস প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও নির্যাতিত পরিবার গুলোই আমাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং শক্তির উৎস। তিনি বলেন, সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে যে মানুষগুলো শহীদ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের যে আকাঙ্ক্ষা। এই সরকার বদ্ধপরিকর সে আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে। আজকে হয়ত কেউ কেউ বলতে পারে যে সরকার এই নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলতে চাই। এই মানুষগুলো বা এই পরিবারগুলোর সহযোগিতা বা সমর্থন আছে বলেই সরকার পূর্ণ উদ্যোগে সেই শহীদ বা আত্মত্যাগকারী যে মানুষগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য উৎসাহ নিয়ে, উদ্দীপনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের সামনে দেখে আমিও কিছুটা ইমোশনাল বোধ করছি। তারপরেও স্বাভাবিকভাবেই বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে আমাদের যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। যে মানুষগুলো ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যারা আমাদের মাঝে আছে। যারা আমাদের মাঝে নেই। সব রকম মানুষ যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার পরিবারের যে সদস্য যারা আজকে হারিয়ে গিয়েছে। তারা যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে এ দেশের জন্য বা এই দেশের মানুষের জন্য যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। যারা বিভিন্নভাবে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্তমান সরকার তার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশ এবং জাতিকে ঘিরে যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত এদেশের মানুষ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখবে। আমরা ততদিন পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর সমর্থন বা আশা প্রত্যাশা করব। তারেক রহমান বলেন, এই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সরকার সব সময় চেষ্টা করবে, সরকারের চেষ্টা থাকবে যত লিমিটেশনে থাকুক। তার মধ্যে চেষ্টা থাকবে এই মানুষগুলোর পাশে থাকার জন্য। এই পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য।
অপরাধ দমনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতিতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন ২০২৬ : দ্বিতীয় কোয়ার্টার) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার পরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস) উদ্ধারের জন্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার বা শটগান জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খবর দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদেরও ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও মতবিনিময় করেন।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার এসব মরদেহের মধ্যে ৬২৬ টি নেপাল এবং বাকি ৭টি তিব্বতের। মরদেহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিখোঁজদের সংখ্যাও। কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের তথ্য অনুসারে, রাসুয়া এবং গিরংয়ে এ পর্যন্ত নিখোঁজদের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। এই নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশরপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন। গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার,পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে নদীতে যে জলাধার তৈরি হয়) ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং তার সঙ্গে আসা টনকে টন কাদা, পাথর, জঞ্জালে ঢেকে যায় দুই দেশের দু’জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যারিয়ার হ্রদের পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল সিসিটিভির প্রতিবেদনে। শুক্রবার এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর তিব্বত এবং নেপাল— উভয় স্থানেই উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। কিছু সময় স্থগিত থাকার পর অবশ্য ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে নেপাল; তবে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে তিব্বতে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জারি করা সতর্ক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের স্বাক্ষর করা এ সতর্ক বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এতে করে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।