জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারগুলোই আমাদের শক্তির উৎস প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও নির্যাতিত পরিবার গুলোই আমাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং শক্তির উৎস। তিনি বলেন, সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে যে মানুষগুলো শহীদ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের যে আকাঙ্ক্ষা। এই সরকার বদ্ধপরিকর সে আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে। আজকে হয়ত কেউ কেউ বলতে পারে যে সরকার এই নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে অন্যভাবে বলতে চাই। এই মানুষগুলো বা এই পরিবারগুলোর সহযোগিতা বা সমর্থন আছে বলেই সরকার পূর্ণ উদ্যোগে সেই শহীদ বা আত্মত্যাগকারী যে মানুষগুলো তাদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করার জন্য উৎসাহ নিয়ে, উদ্দীপনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবেই আপনাদের সামনে দেখে আমিও কিছুটা ইমোশনাল বোধ করছি। তারপরেও স্বাভাবিকভাবেই বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে আমাদের যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। যে মানুষগুলো ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যারা আমাদের মাঝে আছে। যারা আমাদের মাঝে নেই। সব রকম মানুষ যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার পরিবারের যে সদস্য যারা আজকে হারিয়ে গিয়েছে। তারা যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে এ দেশের জন্য বা এই দেশের মানুষের জন্য যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। যারা বিভিন্নভাবে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বর্তমান সরকার তার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশ এবং জাতিকে ঘিরে যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিল সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত এদেশের মানুষ আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রাখবে। আমরা ততদিন পর্যন্ত এই পরিবারগুলোর সমর্থন বা আশা প্রত্যাশা করব। তারেক রহমান বলেন, এই দেশের গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য সরকার সব সময় চেষ্টা করবে, সরকারের চেষ্টা থাকবে যত লিমিটেশনে থাকুক। তার মধ্যে চেষ্টা থাকবে এই মানুষগুলোর পাশে থাকার জন্য। এই পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য।
অপরাধ দমনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অগ্রগতিতে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে (এপ্রিল-জুন ২০২৬ : দ্বিতীয় কোয়ার্টার) প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার পরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য সরকার পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা ভারী অস্ত্র (হেভি ওয়েপনস) উদ্ধারের জন্য তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন, তাদেরকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার বা শটগান জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে খবর দিয়ে যারা সহায়তা করবেন, তাদেরও ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, তথ্যদাতাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের দায়বদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও মতবিনিময় করেন।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত প্রদেশের গিরং জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার এসব মরদেহের মধ্যে ৬২৬ টি নেপাল এবং বাকি ৭টি তিব্বতের। মরদেহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিখোঁজদের সংখ্যাও। কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ের তথ্য অনুসারে, রাসুয়া এবং গিরংয়ে এ পর্যন্ত নিখোঁজদের সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনে। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং গিরংয়ে ৫৫৮ জন। পানিতে ভেসে গিয়ে কিংবা বানের সঙ্গে আসা কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন তারা। এই নিখোঁজদের মধ্যে নেপালি ও তিব্বতিদের পাশরপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ৩৫টি দেশের প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক আছেন। গত ২৬ আগস্ট বুধবার ভোতিকোশি এবং তার শাখানদী লেহন্দে নদীর একটি ব্যারিয়ার হ্রদ (তুষার,পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বাধার কারণে পানির প্রবাহ আটকে নদীতে যে জলাধার তৈরি হয়) ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী রাসুয়া এবং সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায়। লাখ লাখ ঘনমিটার পানি এবং তার সঙ্গে আসা টনকে টন কাদা, পাথর, জঞ্জালে ঢেকে যায় দুই দেশের দু’জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এদিকে গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদেন চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ব্যারিয়ার হ্রদের সন্ধান মিলেছে এবং যে কোনো সময়ে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যারিয়ার হ্রদের পানির প্রভাবে ভোতিকোশি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল সিসিটিভির প্রতিবেদনে। শুক্রবার এ খবর প্রচারিত হওয়ার পর তিব্বত এবং নেপাল— উভয় স্থানেই উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। কিছু সময় স্থগিত থাকার পর অবশ্য ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে নেপাল; তবে চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর ফের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হবে তিব্বতে। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জারি করা সতর্ক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের স্বাক্ষর করা এ সতর্ক বার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এতে করে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
বিনোদন প্রতিবেদক নেপালের আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আটকা পড়েছিল ঢালিউড সিনেমা ‘শিকার’-এর শুটিং টিম। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির খবর এসেছে—সিনেমাটির নায়ক মুর্তজা পলাশ, নায়িকা অপু বিশ্বাসসহ পুরো টিম নিরাপদে কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে তারা দেশে অবতরণ করবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ‘শিকার’ টিম সূত্রে জানা গেছে, মুর্তজা পলাশ ও অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বড়দা মিঠু, সুমন আনোয়ার, মোহাম্মদ সোহাগসহ সিনেমাটির অন্য কলাকুশলীরাও বর্তমানে নিরাপদে আছেন। নেপালে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত শুটিং শেষ না করেই তাদের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এর আগে গত ৩১ জুলাই সিনেমাটির দৃশ্যধারণের উদ্দেশ্যে নেপালে যায় ‘শিকার’ টিম। নেপালের নৈসর্গিক পাহাড়ি পরিবেশে সিনেমাটির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিং করা হয়। পোখারার মনোরম লোকেশনে মহরতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সিনেমাটির নেপাল অংশের শুটিং। কিন্তু গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হলে শুটিং কার্যক্রম ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত দেশে ফেরার উদ্যোগ নেয় ‘শিকার’ টিম। এরই মধ্যে তারা কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এর আগে নেপালে অবস্থানকালে অপু বিশ্বাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের নিরাপদে থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত ‘শিকার’ সিনেমাটি শুরুতে ওয়েব ফিল্ম হিসেবে নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিকল্পনা করা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকার অপরাধ, নানা অনিয়ম ও রোমাঞ্চকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে থ্রিলার ঘরানার সিনেমাটি। সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। এতে অপু বিশ্বাসের বিপরীতে বড় পর্দায় অভিষেক হচ্ছে মুর্তজা পলাশের। নাটকে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েই তাকে সিনেমাটিতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন নির্মাতা। ‘শিকার’-এ অপু-মুর্তজা ছাড়াও অভিনয় করছেন বড়দা মিঠু, সুমন আনোয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও শ্যাম ভট্টাচার্যসহ অনেকে। নেপালের পোখারায় সিনেমাটির প্রথম দিনের শুটিংয়েও অংশ নেন অপু বিশ্বাস, মুর্তজা পলাশ, বড়দা মিঠু, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেপাল অংশের শুটিং অসমাপ্ত থাকলেও নিরাপদে দেশে ফেরার স্বস্তি নিয়েই ফিরছেন ‘শিকার’ টিমের সদস্যরা। দেশে ফিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাকি দৃশ্যধারণের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে। একে
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গার রবিউল ইসলাম হৃদয়ের (২৮) মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা ভাটোপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়। বাকি সাতজন নওগাঁর আত্রাই এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে প্রশাসনের সহায়তায় রবিউলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। খবর পেয়ে রাত থেকেই স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। স্বজনরা জানান, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রবিউল। সেখানে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লুকিয়ে কাজ করতে হয়েছে তাকে। প্রায় তিন বছর পর তিনি বৈধ কাগজপত্র পান। গত দেড় বছরে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও পরিবারের ঋণ এখনো পুরোপুরি শোধ হয়নি। ঋণ পরিশোধ করে গ্রামে বাবা-মায়ের জন্য বাড়ি তৈরি শেষে কিছুদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল তার। তবে দেশে ফিরেছে তার নিথর দেহে। নিহত রবিউল ইসলাম হৃদয় মহিষডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে।অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন প্রবাসীর মৃত্যু হয়। তবে প্রথম পর্যায়ে রবিউলের মরদেহ আসলেও বাকি দুজনের মরদেহ এখনো আসেনি। নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই রবিউলের মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। সৌদি আরবে নিহত নলডাঙ্গার আরও দুজনের মরদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ২ দিন আগে ঘটা আকস্মিক বন্যার পর এ পর্যন্ত ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ অবস্থা আছে এক হাজারের বেশি মানুষ। আজ শুক্রবার ভোরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তরা আরও বলেছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করছেন তারা। নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জেরে গত ২৬ আগস্ট বুধবার সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সীমান্তের অপর পাশে তিব্বতের গিরং জেলায় আঘাত হানে এ বন্যা। লাখ লাখ টন কাদা-পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকা, নিখোঁজ হন বহুসংখ্যক মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নেপাল ও চীনের সরকারি মুখপাত্রদের বরাতে জানা গিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং জেলায় নিখোঁজ হয়েছেন কমপক্ষে ১ হাজার ৩৮৪ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮২৬ জন নেপালের এবং ৫৫৮ জন তিব্বতের। এই নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি বিদেশি নাগরিক। নেপালে নিখোঁজ হয়েছেন ৫০০ জন এবং তিব্বতে নিখোঁজ হয়েছেন ২৬০ জন বিদেশি। বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা- পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছেন নিখোঁজরা। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিতদের সন্ধান করেছে এবং শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে। আর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান করছে, উদ্ধার মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছে। বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে দিবগা তামাং ছিলেন অন্যতম। তাকে আরও তিনজনের সাথে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। তামাং বলেন, “আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।”