পুরান ঢাকার বাদামতলী মার্কেট সংলগ্ন সব অবৈধ পার্কিং ও অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বাদামতলী এলাকার অবৈধ স্থাপনা ও পার্কিং সমস্যা নিরসনে ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে সহায়তা চান। বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের অবৈধ পার্কিং ও স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। ডিএসসিসি প্রশাসকের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) বলেন, সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এমন দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত পাওয়া সত্যিই প্রেরণাদায়ক। ডিএসসিসি প্রশাসকের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে আমরা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারব এবং বাদামতলী এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন করা সম্ভব হবে। এদিকে একটি জাতীয় দৈনিকে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি ডিএসসিসির নজরে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুবাজার ব্রিজের নিচে নবনির্মিত কার পার্কিংয়ের ‘এ’ থেকে ‘ডি’ পর্যন্ত ৪টি ব্লকের ২৮,০৫১.১২ বর্গফুট খোলা জায়গায় পরিচালিত চলমান কার পার্কিংয়ের সব কার্যক্রম পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি কর্পোরেশন জনগণের সেবার জন্য। সুতরাং নাগরিকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয় বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কাজ সিটি কর্পোরেশন নিজে করবে না এবং অন্য কাউকেও করতে দেওয়া হবে না।
বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা এবং বিগত সরকারের শাসন, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত দৈনিক জনতার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সরকারের বক্তব্য প্রচার করা নয়; বরং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা। তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের প্রধান কাজই হচ্ছে প্রশ্ন করার ক্ষমতা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতার নামই হচ্ছে সাংবাদিকতা। যদি ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করা না যায়, তাহলে তো সাংবাদিকতা অর্থহীন।” বিগত সরকারের সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি দুর্বল অর্থনীতি, সংকটাপন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং নীতিগতভাবে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি পেলাম, আমরা একটা দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনীতি পেলাম, ভাঙাচোড়া একটা রাষ্ট্র পেলাম। আমরা নীতিবিহীন একটা পররাষ্ট্রনীতির উত্তরাধিকার পেলাম।” বিগত সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, আমদানিনির্ভরতা ও অনিয়মের কারণে বর্তমান সরকারকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “এই যে লুটপাট, এই আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি, এই যে অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ নীতি—বিগত সরকারের এই বিষয়গুলোকে জনগণের সামনে আমাদের সরকার বারবার তুলে ধরছে।” বিগত সরকারের শাসনামলের রাজনৈতিক পরিবেশের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “লুটপাট, ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, নৈরাজ্যিক সমাজ, নৈরাজ্যিক রাজনীতি, গুম-খুন—সেই বিষাক্ত আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে জনগণের যে কষ্ট, সেই যন্ত্রণার জন্যও আমাদের তাদের সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে।” বাকশাল ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বাকশাল ব্যবস্থা পরাজিত হয়েছে এবং করুণভাবে রক্তারক্তির মধ্য দিয়ে বাকশাল ব্যবস্থার কবর লাভ করেছে।” তিনি আরও বলেন, “এত বড় একটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল, যা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরো চিন্তা ও দর্শনকে কবরে নিয়ে গিয়েছে।” জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি সংকটের প্রকৃত কারণও জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। তবে সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে একদিকে নিজের এই জগতকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল করতে হবে, আরেকদিকে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের যে কঠিন কাজ, সেই কঠিন কাজকে গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে হবে।” গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। অনুষ্ঠানের শেষদিকে দৈনিক জনতার নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন। কেএমএম
সেটিকে সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টির মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারব। তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। সব সময় কারও আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয় বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি আশঙ্কা করা হলে সে কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয় বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। আমরা এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়। গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্টভাবে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও পানি সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান বিক্রস মোলারের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকারের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ডেনমার্কের অর্থায়নের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড়ো ধরনের আর্থিক চাপ পড়বে না। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও কিনবে। প্রাথমিকভাবে এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় এবং বাকি অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে কেনার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য হলে বিদেশ থেকে সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরের জন্য একটি ক্রয় পরিকল্পনা করেছে টিসিবি। এ পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর কেনা হবে। পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও ভোক্তাদের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা মজুত এবং পাইপলাইনে থাকা সরবরাহ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে টিসিবি। মজুত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে গুদাম সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে টিসিবির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। এসব গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে নিজস্ব গুদামের ধারণক্ষমতা ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামের ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন। চলমান কার্যক্রমের জন্য টিসিবির বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ফয়সল আজাদ। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে, বিশেষ করে সরকারি সহায়তায় পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের জন্য ক্রয় ও মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতেও কাজ করছে টিসিবি। প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফয়সল আজাদ বলেছেন, বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিসিবিকে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সংস্থাটির ভূমিকা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেছেন, টিসিবি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তবে পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি। ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও পরিবারের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টিসিবি সরবরাহ করে, যা এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তা করে বলে জানান তিনি। পণ্যের তালিকাও বাড়াচ্ছে টিসিবি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মশলা, মরিচ ও হলুদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফয়সল আজাদ বলেছেন, ‘এসব পণ্য নিয়মিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।’ বর্তমানে টিসিবির প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফেরার অধিকার রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশে থাকা ১৬টি বিদেশি কূটনৈতিক মিশন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রোহিঙ্গা সংকটের নবম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেছে ১৬ বিদেশি কূটনৈতিক মিশন। বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির নয় বছর পরও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি নেই। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কূটনৈতিক মিশনগুলো বলেছে, রাখাইনে সংঘাত বৃদ্ধি, বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা এবং ত্রাণ ও বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধার কারণে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়ছে।রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, এর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণ মোকাবিলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা রাখাইনে ফিরে নিজেদের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও সম্প্রদায় পুনর্গঠন করতে পারে। বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে কূটনৈতিক মিশনগুলো রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করা মিশনগুলো : কানাডা, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কসোভো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।
বিভিন্ন স্থানে আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোনো কোনো এলাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বুধবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ধিত পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একে