দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী ধরে অনেকটা গোপনেই ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠন করেছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এতদিন এই ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যক্রম আড়ালে রাখা হলেও শিগগিরই এর সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তারা একটি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এর সদস্যদের প্রশিক্ষণও চলছে। খুব শিগগির আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মাসে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই এর সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। কারা এই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন— জানতে চাইলে তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে ছায়া মন্ত্রিসভা সাজানো হয়েছে। সংগঠনের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা, যারা সংসদ সদস্য নন, তারাও এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সরকারের কার্যক্রমকে জবাবদিহির মধ্যে আনাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছায়া মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তথ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী রয়েছেন বলে জানা গেছে। জামায়াতের দাবি, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, সরকারি সিদ্ধান্তের বিকল্প নীতিপ্রস্তাব তৈরি এবং সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা জানান, গত মাসেই গোপনে এটি গঠন করা হয়। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাজেট এবং সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় কাজ শুরু করেছেন ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রথমে জোটগতভাবে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবেই এই কাঠামো তৈরি করেছে জামায়াত। এতে দলের শীর্ষ নেতা, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্রশিবির নেতাদেরও যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন করে ছায়া মন্ত্রী রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ভিত্তিক পৃথক টিমও কাজ করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী উপমন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে জামায়াত। জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রধান লক্ষ্য তিনটি— সরকারের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সরকারের ভুল-দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিকল্প পথ তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য মন্ত্রী তৈরি করা। অর্থাৎ শুধু সরকারের বিরোধিতা নয়, বিকল্পভাবে সরকার পরিচালনার প্রস্তুতিও এই কাঠামোর অন্যতম লক্ষ্য। ছায়া মন্ত্রিসভার কার্যক্রম সম্পর্কে জামায়াতের শীর্ষ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা রয়েছে— এমন দেশগুলোতে বিরোধী দল সাধারণত সরকারের গঠিত মন্ত্রিসভার পাশাপাশি একটি প্যারালাল বা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. স ম আলী রেজা বলেন, পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা নতুন কোনো ধারণা নয়; শক্তিশালী নাগরিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে— এমন দেশগুলোতে এটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত চর্চা। তার মতে, ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের ওপর একধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে এবং বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনার একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দেয়। সরকার বাজেট বা বড় কোনো নীতি প্রস্তাব উপস্থাপন করলে সংশ্লিষ্ট ছায়া মন্ত্রীরাও বিকল্প বাজেট বা নীতিপ্রস্তাব জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এর ফলে তুলনামূলক আলোচনা তৈরি হবে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় প্রস্তাব গ্রহণের সুযোগ পাবে। কেএমএম
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবগঠিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে তারা শ্রদ্ধা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার (দীপু) এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নবগঠিত জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন। এ ছাড়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্যান্য সদস্য, জেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, উপজেলা বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। নবগঠিত রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর এ শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচির মাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা। একে
আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আইজিপির সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ১১ দলীয় জোটের নেতারা পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করবেন। সাক্ষাৎ শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন জোটের নেতারা। সোমবার (২৪ আগস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এ তথ্য জানিয়েছেন। ১১ দলীয় ঐক্য সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক দাবিগুলো সামনে রেখে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। গত ১৭ আগস্ট লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে কর্মসূচি সফল করার জন্য নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে লং মার্চকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলছেন, তাদের ঘোষিত কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ করা নয়, বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে তারা চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। লং মার্চের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এর আগে জোটের নেতারা বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন। কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পথে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে লং মার্চের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জোটের নেতারা। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বৈঠকে লং মার্চের রুট, অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা করা হবে। সাক্ষাৎ শেষে পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকলে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা সহজ হবে। তাই লং মার্চের আগে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জোট সূত্রে জানা গেছে। জেইউ/এসএএস
সংজ্ঞার দিক থেকে আমরা সকলেই জানি, হোয়াট ইজ রেভল্যুশন অ্যান্ড হোয়াট ইজ রিফর্ম (বিপ্লব কী এবং সংস্কার কী)। কিন্তু আমার মনে হয়, এ কথা বলার সময় বোধ হয় আমাদের অনেকেরই এই সংজ্ঞা স্মরণে থাকে না। আমরা আসলে জুলাই বিপ্লবকে কোন চশমা দিয়ে দেখছি? কারণ, এই চশমাটা যদি খুব পরিষ্কার না হয় এবং এর পাওয়ারটা যদি খুব স্পেসিফিক্যালি ডিটেক্টেড না থাকে, তাহলে কিন্তু চশমার দুর্বলতা থাকলে পরিষ্কার দেখতে পারব না। আমি বিনীতভাবে এ কথাটা একটু জানিয়ে রাখলাম যে, আমরা কিন্তু খুব স্পষ্টভাবে—আমাদের দল এবং আমাদের সরকার—মনে করি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রচলিত ব্যবস্থাকে সংস্কার করার জন্য, মেরামত করার জন্য এবং কোনোভাবেই এখানে কোনো বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি। কোনো বিপ্লবী পার্টি এ কথা বলেনও নাই। জুলাইয়ে কোনো বিপ্লবী আদর্শ আমরা দেখিনি। সেটা রুশ বিপ্লবের মতো দর্শন হোক অথবা ইরান বিপ্লবের মতো দর্শন হোক না কেন। যে কোনো বিপ্লবের পেছনে দর্শন থাকে এবং সেই দর্শনকে ধারণকারী একটি রাজনৈতিক শক্তি সেই বিপ্লবকে নেতৃত্ব দেয়। তারপর একটা বিপ্লবী পরিবর্তন হয়। এরপর একটি বিপ্লবী সরকার হয় এবং তারা সম্পূর্ণভাবেই জিরো থেকে জার্নি স্টার্ট করেন। সেটা যদি হতো, সেই প্রেক্ষিতে আমরা কী কী কথা বলতাম, সেটা আরেকটা আলাপ। কিন্তু সেটা যে হয়নি, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকা কিন্তু ঠিক না।” ২৪ আগস্ট (সোমবার) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “কেউ যদি ৫ আগস্টের বিকেলবেলার দৃশ্যকে মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পনা করতে থাকি, তাহলে কিন্তু রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াতে যখন আমাদের একটা ঐকমত্য দরকার, সে ঐকমত্য বিল্ডিং প্রসেসও কিন্তু বাধাগ্রস্ত হবে। এই কথাগুলো যদি আমরা আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে একটা সমান্তরাল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে ফেলতে পারি এবং আমরা যদি আমাদের দেখার ধরনটাকে এক করে ফেলতে পারি, তখন কিন্তু আমরা সবাই মিলে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক, কোনটা বাদ দেব, কোনটাকে গ্রহণ করব, কোনটা আপাতত রাখব, কোনটাকে গুরুত্ব দেব—এই সংস্কার প্রক্রিয়ার যে একটা জটিল জার্নি, এই জার্নিটা কিন্তু তখন আমরা খুব সহজে করতে পারব। খুব হেলদি প্রসেসের মধ্যে কিন্তু আমরা এটা করতে পারব। তা না হলে, যখন এরকম একটা জটিল কাজ সবাই মিলে করতে হবে, একজনের চশমার পাওয়ার একরকম, আরেকজনের চশমার পাওয়ার আরেকরকম। একজন বিপ্লবী চশমা দিয়ে দেখছেন, একজন ডিফারেন্ট চশমা দিয়ে দেখছেন। একজন মনে করছেন ’৭২-এর সংবিধান বাদ, একজন মনে করছেন না, এটাই একটা পবিত্র জিনিস। এইভাবে কিন্তু এরকম একটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পর্বে শহীদদের যে চেতনা, মানুষের যে চাহিদা, সেটা কিন্তু আসলে আমরা সবাই মিলে তখন করতে পারব না।” আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত ও সমালোচনাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগ ও পরামর্শ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ঐকমত্য তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যমত ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের এই যাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে নেওয়া সম্ভব নয়। কেএমএম
দলগুলো থেকে বলা হয়, সংবিধান ছুড়ে ফেলে সংবিধানকে পুনর্লিখন করতে হবে। জুলাই সনদ করার আগে সেটা অন্য একটা এপিসোড হতে পারত। কিন্তু আমরা যখন ৩৩টি রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, তখন আমরা সব রাজনৈতিক দল ’৭২-এর সংবিধান মেনে নিয়েছি। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে ছয়টি অনুচ্ছেদ আছে। ছয়টি অনুচ্ছেদের ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে ‘ক’ ও ‘খ’ পাঠ আছে। ‘ক’ পাঠে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধন করে এই কাজগুলো করতে হবে। তার মানে, আমি ’৭২-এর সংবিধানকে অ্যাডাপ্ট করে নিলাম। আমি যা কিছু করি না কেন, ’৭২-এর সংবিধানকে সামনে রেখেই আমাকে এগিয়ে নিতে হবে। এটা হলো জুলাই সনদের একটি পাঠ। ২৪ আগস্ট (সোমবার) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৭ সদস্যের কমিটি করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য সমমনা দল থেকে পাঁচজন—জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ—মোট ১২ জনের কমিটি করেছি। আমরা বিরোধী দলকে বলেছিলাম, আপনারা পাঁচজনের নাম দেন। তাঁরা পরবর্তী অধিবেশনে নাম দিতে চাইলেন। এরপর আমরা দফায় দফায় মিটিং করেছি। কিন্তু আমরা সেই নামগুলো পাইনি। “আমরা ১২ সদস্যের একটি কমিটি করেছি এবং বলেছি, ওই পাঁচজনের নামের জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা আশা করি, তাঁরা যদি ওই নামগুলো দেন, তাহলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংস্কারের পথ ধরে আমরা এগোব। “সেখানে আপনাদের যেকোনো বক্তব্যকে আমরা যদি যৌক্তিক মনে করি, তাহলে আমরা তা অ্যাকোমোডেট করার চেষ্টা করব। আর যৌক্তিক অ্যাকোমোডেশনগুলো করার জন্য আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আবারও বলছি, আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই, আমরা পেছনে ফিরতে চাই না। সাংস্কৃতিকভাবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা গুম-খুনের রাজনীতির পেছনে যেতে চাই না।” আসাদুজ্জামান বলেন, “বিএনপি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলছে,আমরা জুলাই সনদের পথ ধরে হাঁটতে চাই। সেই পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন। আমরা সেই পথ ধরেই হাঁটব এবং আশা করি, সংস্কারের যৌক্তিক জায়গাগুলোতে আমরা পৌঁছাতে পারব।” একেএমএম