দলগুলো থেকে বলা হয়, সংবিধান ছুড়ে ফেলে সংবিধানকে পুনর্লিখন করতে হবে। জুলাই সনদ করার আগে সেটা অন্য একটা এপিসোড হতে পারত। কিন্তু আমরা যখন ৩৩টি রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, তখন আমরা সব রাজনৈতিক দল ’৭২-এর সংবিধান মেনে নিয়েছি। সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে ছয়টি অনুচ্ছেদ আছে। ছয়টি অনুচ্ছেদের ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে ‘ক’ ও ‘খ’ পাঠ আছে। ‘ক’ পাঠে বলা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধন করে এই কাজগুলো করতে হবে। তার মানে, আমি ’৭২-এর সংবিধানকে অ্যাডাপ্ট করে নিলাম। আমি যা কিছু করি না কেন, ’৭২-এর সংবিধানকে সামনে রেখেই আমাকে এগিয়ে নিতে হবে। এটা হলো জুলাই সনদের একটি পাঠ।
২৪ আগস্ট (সোমবার) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৭ সদস্যের কমিটি করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্যান্য সমমনা দল থেকে পাঁচজন—জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ—মোট ১২ জনের কমিটি করেছি। আমরা বিরোধী দলকে বলেছিলাম, আপনারা পাঁচজনের নাম দেন। তাঁরা পরবর্তী অধিবেশনে নাম দিতে চাইলেন। এরপর আমরা দফায় দফায় মিটিং করেছি। কিন্তু আমরা সেই নামগুলো পাইনি।
“আমরা ১২ সদস্যের একটি কমিটি করেছি এবং বলেছি, ওই পাঁচজনের নামের জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা আশা করি, তাঁরা যদি ওই নামগুলো দেন, তাহলে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধান সংশোধনের জন্য সংস্কারের পথ ধরে আমরা এগোব।
“সেখানে আপনাদের যেকোনো বক্তব্যকে আমরা যদি যৌক্তিক মনে করি, তাহলে আমরা তা অ্যাকোমোডেট করার চেষ্টা করব। আর যৌক্তিক অ্যাকোমোডেশনগুলো করার জন্য আপনাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আবারও বলছি, আমরা সামনের দিকে এগোতে চাই, আমরা পেছনে ফিরতে চাই না। সাংস্কৃতিকভাবে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা গুম-খুনের রাজনীতির পেছনে যেতে চাই না।”
আসাদুজ্জামান বলেন, “বিএনপি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বলছে,আমরা জুলাই সনদের পথ ধরে হাঁটতে চাই। সেই পথেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখুন। আমরা সেই পথ ধরেই হাঁটব এবং আশা করি, সংস্কারের যৌক্তিক জায়গাগুলোতে আমরা পৌঁছাতে পারব।”
একেএমএম