ত্বকের যত্নের জন্য সময় নেই? হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা জরুরি। সাধারণ ত্বকের যত্ন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অকাল বার্ধক্য ও বিভিন্ন ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। শুরু করতে পারেন এই পাঁচটি পরামর্শ দিয়ে।
ত্বকের যত্ন নেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করা। দীর্ঘ সময় রোদের সংস্পর্শে থাকলে বলিরেখা, বয়সের ছাপ ও অন্যান্য ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বাড়তে পারে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকিও।
কমপক্ষে ৩০ এসপিএফযুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর সানস্ক্রিন পুনরায় ব্যবহার করা উচিত।
সম্ভব হলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। এ সময় সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মি সবচেয়ে শক্তিশালী থাকে।
এ ছাড়া ঘন বুননের লম্বা হাতার পোশাক, লম্বা প্যান্ট ও চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করে ত্বক ঢেকে রাখুন।
ধূমপানের নানা ক্ষতিকর দিকের মধ্যে ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। ধূমপান ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে। ধূমপান ছাড়তে সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ বা চিকিৎসা নেওয়া যেতে পারে।
প্রতিদিনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শেভিংয়ের সময় ত্বকের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। গোসলের সময় সীমিত রাখুন এবং গরম পানির পরিবর্তে উষ্ণ পানি ব্যবহার করুন।
কড়া সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার না করে মৃদু ক্লিনজার বেছে নিন। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে ত্বক ঘষে না মুছে আলতোভাবে চাপ দিয়ে পানি শুকিয়ে নিন।
ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে।
সুষম খাদ্য ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সহায়তা করে। খাবারের তালিকায় প্রচুর ফল, শাক-সবজি, শস্যদানা ও চর্বিহীন প্রোটিন রাখুন। ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এবং পরিশোধিত শর্করা সীমিত করুন। কিছু গবেষণায় পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবারের সঙ্গে ত্বকের অকাল বার্ধক্যের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
ব্রণ ও খাদ্যাভ্যাসের সম্পর্ক পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত দুধ পান বা রক্তে দ্রুত শর্করা বাড়ায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে এবং ব্রণসহ বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
দ্রুত হাঁটা, ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যক্রম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিদিনের কাজের চাপ কমিয়ে পছন্দের কাজ ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।