সংজ্ঞার দিক থেকে আমরা সকলেই জানি, হোয়াট ইজ রেভল্যুশন অ্যান্ড হোয়াট ইজ রিফর্ম (বিপ্লব কী এবং সংস্কার কী)। কিন্তু আমার মনে হয়, এ কথা বলার সময় বোধ হয় আমাদের অনেকেরই এই সংজ্ঞা স্মরণে থাকে না। আমরা আসলে জুলাই বিপ্লবকে কোন চশমা দিয়ে দেখছি? কারণ, এই চশমাটা যদি খুব পরিষ্কার না হয় এবং এর পাওয়ারটা যদি খুব স্পেসিফিক্যালি ডিটেক্টেড না থাকে, তাহলে কিন্তু চশমার দুর্বলতা থাকলে পরিষ্কার দেখতে পারব না।
আমি বিনীতভাবে এ কথাটা একটু জানিয়ে রাখলাম যে, আমরা কিন্তু খুব স্পষ্টভাবে—আমাদের দল এবং আমাদের সরকার—মনে করি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রচলিত ব্যবস্থাকে সংস্কার করার জন্য, মেরামত করার জন্য এবং কোনোভাবেই এখানে কোনো বিপ্লব সম্পন্ন হয়নি। কোনো বিপ্লবী পার্টি এ কথা বলেনও নাই। জুলাইয়ে কোনো বিপ্লবী আদর্শ আমরা দেখিনি। সেটা রুশ বিপ্লবের মতো দর্শন হোক অথবা ইরান বিপ্লবের মতো দর্শন হোক না কেন। যে কোনো বিপ্লবের পেছনে দর্শন থাকে এবং সেই দর্শনকে ধারণকারী একটি রাজনৈতিক শক্তি সেই বিপ্লবকে নেতৃত্ব দেয়। তারপর একটা বিপ্লবী পরিবর্তন হয়। এরপর একটি বিপ্লবী সরকার হয় এবং তারা সম্পূর্ণভাবেই জিরো থেকে জার্নি স্টার্ট করেন। সেটা যদি হতো, সেই প্রেক্ষিতে আমরা কী কী কথা বলতাম, সেটা আরেকটা আলাপ। কিন্তু সেটা যে হয়নি, এ বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকা কিন্তু ঠিক না।”
২৪ আগস্ট (সোমবার) সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “কেউ যদি ৫ আগস্টের বিকেলবেলার দৃশ্যকে মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পনা করতে থাকি, তাহলে কিন্তু রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াতে যখন আমাদের একটা ঐকমত্য দরকার, সে ঐকমত্য বিল্ডিং প্রসেসও কিন্তু বাধাগ্রস্ত হবে।
এই কথাগুলো যদি আমরা আগে থেকেই নিজেদের মধ্যে একটা সমান্তরাল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে ফেলতে পারি এবং আমরা যদি আমাদের দেখার ধরনটাকে এক করে ফেলতে পারি, তখন কিন্তু আমরা সবাই মিলে কোনটা সঠিক, কোনটা বেঠিক, কোনটা বাদ দেব, কোনটাকে গ্রহণ করব, কোনটা আপাতত রাখব, কোনটাকে গুরুত্ব দেব—এই সংস্কার প্রক্রিয়ার যে একটা জটিল জার্নি, এই জার্নিটা কিন্তু তখন আমরা খুব সহজে করতে পারব। খুব হেলদি প্রসেসের মধ্যে কিন্তু আমরা এটা করতে পারব। তা না হলে, যখন এরকম একটা জটিল কাজ সবাই মিলে করতে হবে, একজনের চশমার পাওয়ার একরকম, আরেকজনের চশমার পাওয়ার আরেকরকম। একজন বিপ্লবী চশমা দিয়ে দেখছেন, একজন ডিফারেন্ট চশমা দিয়ে দেখছেন। একজন মনে করছেন ’৭২-এর সংবিধান বাদ, একজন মনে করছেন না, এটাই একটা পবিত্র জিনিস। এইভাবে কিন্তু এরকম একটা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পর্বে শহীদদের যে চেতনা, মানুষের যে চাহিদা, সেটা কিন্তু আসলে আমরা সবাই মিলে তখন করতে পারব না।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মতামত ও সমালোচনাকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগ ও পরামর্শ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ঐকমত্য তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঐক্যমত ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কারের এই যাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত পরিণতিতে নেওয়া সম্ভব নয়।
কেএমএম