গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ কার্যকর পরিবর্তনের আশায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে বড় বিজয় পাওয়ার পর বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি গড়িমসি করছে। জনগণের ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই রায় উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষ একটা কার্যকর পরিবর্তনের আশায় গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। তারাও (বিএনপি) চাইলো, আমরাও গণভোট বাস্তবায়ন চাইলাম। কিন্তু ইলেকশনে যখন তারা একটা বড় বিজয় যেভাবেই পেয়ে গেলেন, এখন তারা ওটা ভুলে গেল। এখন গণভোটের রায় তারা আর বাস্তবায়ন করবেন না। তারা এখন বলেন যে, এটা সংবিধানে নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কিছু কিন্তু ডকট্রিন অব নেসেসিটি হিসেবে। অথচ পিপলস উইল (জনগণের ইচ্ছা) হিসেবে মেনে নেওয়াটাই সুপ্রিম ল। তারা সংবিধানের এক অংশ মানে, আরেক অংশ মানে না। জনগণের রায় তারা উপেক্ষা করে। এই কারণে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব এবং এই লড়াই ইনশাআল্লাহ জনগণেরই বিজয় হবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪-পরবর্তী বিপুল আকাঙ্ক্ষা, পরিবর্তনের আশায় মানবিক, বৈষম্যহীন একটা সমাজ ও জাতি দেখতে চায়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। সেই নির্বাচনে আমরা লড়াই করেছি। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এখন যারা সরকার পরিচালনা করছেন, এ ব্যাপারে নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট রিজারভেশন ছিল না। তারপরও দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এই নির্বাচন আমরা সংসদের ভেতরে গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমাদের ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আসলে ভালোবাসা একদিক থেকে জোড়া নেয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দিক থেকে আসতে হয়। দায়িত্ববোধ একদিকে জাগ্রত হলে হয় না। সরকারের দুইটা অঙ্গ—একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধী দল। এছাড়া একটা দেশ চলে না। উইদাউট অপোজিশন, ডেমোক্রেসি জিরো—এটার কোনো ভ্যালু নাই।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘আপনারা সচেতন সাংবাদিক সমাজ লক্ষ্য করছেন, আমরা বৈষম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি। শুধু সংসদের ভেতরে নয়, বাইরেও যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের যুব সমাজ এবং তাদের কাছে সাড়া দিয়ে তারা দেশবাসী একটা দানবীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যের কারণে অভ্যুত্থান করল, সেই বৈষম্যটা আরও প্রকট হচ্ছে বলে এখন আমাদের কাছে মনে হয়।’
তিনি বলেন, ‘৩০০ আসনে যেসব সরকারি দলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, সেখানে এ পর্যন্ত যে ফান্ডের অ্যালোকেশন যা দেওয়া হয়েছে, তার ধারে-কাছে বিরোধী দলের সদস্যকে দেওয়ার সাড়াশব্দও তো কোনো বলে না। তারা বলেছিল, তারা যদি সরকার গঠন করেন, বৈষম্য করবেন না, সুষম উন্নয়ন করবেন। ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন, উত্তরাঞ্চলে তাদের একজন বিশিষ্ট দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ভোট দেবেন জামায়াতে ইসলামীকে আর উন্নয়ন চাইবেন আমাদের কাছে? উন্নয়ন তো দান নয়, উন্নয়ন নাগরিকদের অধিকার।’
সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আরও দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সংসদে ৫০ জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সংরক্ষিত আসনে। একই আচরণ করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে। সংসদে তুমুল সমালোচনার পরে হালকা-পাতলা এমন একটা তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অ্যালোকেশন ফান্ড দেওয়া হচ্ছে। এটা কেন হবে? এটা তো সমান হওয়া উচিত। আপনারা তো এমনিতেই বেশি আছেন, তো বেশিরভাগ কাজ তো আপনাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তারা অনেক সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু নিজেরা অসাংবিধানিক কাজ করে চালিয়ে যাচ্ছে।’
সবাইকে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর। পরে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।