বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী’ আখ্যা এবং বিগত সরকারের শাসন, অর্থনীতি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত দৈনিক জনতার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমের কাজ শুধু সরকারের বক্তব্য প্রচার করা নয়; বরং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা এবং রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের প্রধান কাজই হচ্ছে প্রশ্ন করার ক্ষমতা। ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতার নামই হচ্ছে সাংবাদিকতা। যদি ক্ষমতাকেই প্রশ্ন করা না যায়, তাহলে তো সাংবাদিকতা অর্থহীন।”
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে একটি দুর্বল অর্থনীতি, সংকটাপন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এবং নীতিগতভাবে দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি পেলাম, আমরা একটা দুর্দশাগ্রস্ত অর্থনীতি পেলাম, ভাঙাচোড়া একটা রাষ্ট্র পেলাম। আমরা নীতিবিহীন একটা পররাষ্ট্রনীতির উত্তরাধিকার পেলাম।”
বিগত সরকারের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, আমদানিনির্ভরতা ও অনিয়মের কারণে বর্তমান সরকারকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তার ভাষায়, “এই যে লুটপাট, এই আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি, এই যে অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ নীতি—বিগত সরকারের এই বিষয়গুলোকে জনগণের সামনে আমাদের সরকার বারবার তুলে ধরছে।”
বিগত সরকারের শাসনামলের রাজনৈতিক পরিবেশের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “লুটপাট, ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, নৈরাজ্যিক সমাজ, নৈরাজ্যিক রাজনীতি, গুম-খুন—সেই বিষাক্ত আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে জনগণের যে কষ্ট, সেই যন্ত্রণার জন্যও আমাদের তাদের সান্ত্বনা দিতে হচ্ছে।”
বাকশাল ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “বাকশাল ব্যবস্থা পরাজিত হয়েছে এবং করুণভাবে রক্তারক্তির মধ্য দিয়ে বাকশাল ব্যবস্থার কবর লাভ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এত বড় একটি আত্মঘাতী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল, যা শেখ মুজিবুর রহমানসহ পুরো চিন্তা ও দর্শনকে কবরে নিয়ে গিয়েছে।”
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি সংকটের প্রকৃত কারণও জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। তবে সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে একদিকে নিজের এই জগতকে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল করতে হবে, আরেকদিকে গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের যে কঠিন কাজ, সেই কঠিন কাজকে গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করে তাকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে হবে।”
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে দৈনিক জনতার নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন।
কেএমএম