মবিনুল ইসলাম রাশা, গবি সংবাদদাত:
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ওষুধ শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রসাধন সামগ্রী, পেট্রোকেমিক্যাল এবং সবুজ প্রযুক্তি বা গ্রিন কেমিস্ট্রির ক্ষেত্রে এক বিরাট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান শিল্পখাত ও বিশ্বমানের গবেষণার চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন দক্ষ, দূরদর্শী ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ রসায়নবিদ। সময়ের এই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) তাদের রসায়ন (কেমিস্ট্রি) বিভাগকে সাজিয়েছে বৈজ্ঞানিক গভীরতা ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে।
অভিজ্ঞ ও গবেষণামুখী শিক্ষকমণ্ডলী
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মূল চালিকাশক্তি হলো এর যোগ্য, অভিজ্ঞ ও দেশ-বিদেশের উচ্চতর ডিগ্রিসম্পন্ন শিক্ষকমণ্ডলী। শিক্ষকরা কেবল গতানুগতিক শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না; বরং তাঁরা শিক্ষার্থীদের মনে বৈজ্ঞানিক কৌতুহল ও যুক্তিবোধ জাগিয়ে তুলেন । প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব ওয়ার্ক, দেশি ও বিদেশি জার্নালে গবেষণা পত্র প্রকাশ, একাডেমিক উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার উপযোগী করে গড়ে তুলতে শিক্ষকরা নিয়মিত মেন্টরিং ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার রূপরেখা তৈরিতে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।
আধুনিক ল্যাবরেটরি ও বিজ্ঞানচর্চা
অণুর সাথে অণুর অলিখিত মিল আর রূপান্তরের খেলাই হলো রসায়ন—স্রেফ বইয়ের পাতায় বন্দি কোনো তত্ত্বীয় পাঠ নয়, বরং ল্যাবরেটরির টেস্টটিউবে নিজের হাতে সৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখার এক অপার শিল্প। এই সৃজনশীল জগতে একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ কেমিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই; আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই বিভাগে গড়ে তোলা হয়েছে সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ এক নিবেদিত গবেষণাগার। যেখানে শিক্ষার্থীররা নিজেদের হাতে একদিকে শেখে মৌল ও যৌগের সূক্ষ্ম পরিমাণগত বিশ্লেষণের ব্যাকরণ, অন্যদিকে জৈব যৌগের গঠন উন্মোচন, কৃত্রিম সংশ্লেষণ (সিন্থেসিস) ও মানবকল্যাণে ড্রাগ ডিজাইনিংয়ের সূক্ষ্ম কারিগরি। আর এই রোমাঞ্চকর যাত্রার শেষ টানে, মৌলিক উপাদানের ধর্ম অন্বেষণের পাশাপাশি তারা প্রতিনিয়ত বুঁদ হয়ে থাকে পরিবেশ দূষণ রোধ ও এক সবুজ, টেকসই আগামী গড়ার গবেষণায়।
বাস্তবমুখী গবেষণা ও প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
রসায়নের আসল সৌন্দর্য কেবল পাঠ্যবইয়ের শুষ্ক পৃষ্ঠায় কিংবা তাত্ত্বিক সমীকরণে আবদ্ধ থাকে না; এর প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায় আধুনিক ল্যাবরেটরির টেস্টটিউব, বিকার আর অনুঘটকের মায়াবী রূপান্তরে। বিজ্ঞানচর্চাকে আরও প্রাঞ্জল ও বাস্তবমুখী করতে বিভাগে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি উচ্চতর গবেষণা এবং নিবিড় ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়। শিল্পখাতের আধুনিক চাহিদা এবং বিশ্বমানের গবেষণার সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা জৈব সংশ্লেষণ, ওষুধ প্রস্তুত প্রণালী এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সংক্রান্ত মৌলিক ও ফলিত প্রজেক্টে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ল্যাবরেটরির প্রতিটি পরীক্ষা যেন নতুন এক আবিষ্কারের আনন্দ—এই প্র্যাকটিক্যাল চর্চা শিক্ষার্থীদের আধুনিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা জগতে যোগ্য রসায়নবিদ হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।
বহুমুখী ক্যারিয়ারের সুযোগ:
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের -এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা যাতে তারা দেশ ও বিদেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে। এই বিভাগ থেকে পাশ করা গ্র্যাজুয়েটদের সামনে রয়েছে বিস্তৃত ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা:
ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিসিএসআইআর: মান নিয়ন্ত্রণ (QC), কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স (QA) এবং গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) বিভাগে অগ্রাধিকার।
সরকারি ও মেধাভিত্তিক চাকরি: বিসিএস, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (BSTI) এবং বিভিন্ন সরকারি গবেষণা ল্যাব।
গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা: ইউরোপ, আমেরিকা ও এশিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ সহ উচ্চতর শিক্ষা ও পিএইচডি’র সুযোগ।
শিল্প ও উদ্যোক্তা: টেক্সটাইল, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, প্রসাধন সামগ্রী শিল্পে কেমিস্ট হিসেবে কাজ করা কিংবা নিজস্ব কেমিক্যাল ভেঞ্চার শুরু করা।
বিজ্ঞানচর্চার গভীরতা, বাস্তবমুখী গবেষণা এবং আধুনিক শিক্ষার এই অনন্য মেলবন্ধনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ শিক্ষার্থীদের এক উজ্জ্বল ও স্বনির্ভর ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে দিচ্ছে।