গর্ভপাতজনিত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সংকটাপন্ন খাদিজা খাতুনের চিকিৎসায় স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম। জরুরি সময়ে তাঁর দেওয়া রক্তে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সংকটাপন্ন অবস্থায় মোছা. খাদিজা খাতুনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রোগীর স্বজনরা জানান, আকস্মিক শারীরিক জটিলতায় খাদিজা খাতুনের চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এরপর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহে রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না। এতে রোগীর চিকিৎসা নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।
এ সময় বিষয়টি জানতে পারেন যশোর সদর ইউএনও গার্ডে কর্মরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম। রোগীর জরুরি রক্তের প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসেন।
রোগীর স্বামী মো. সুলতান হোসেন বলেন, “সংকটের মুহূর্তে যখন রক্তের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল, তখন একজন আনসার সদস্য কোনো পূর্বপরিচয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই এগিয়ে এসে রক্ত দিয়েছেন। তাঁর প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
আনসার সদস্য মো. আরিফুল ইসলামের এই উদ্যোগ সংকটময় মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক, জনকল্যাণমূলক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
কেএমএম