রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন কামারপাড়া কাঁচাবাজারের সামনে পিকআপ ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় রায়হান নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার এক সহযোগী পালিয়ে গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে কামারপাড়া কাঁচাবাজারের সামনে প্রধান সড়কে একটি পিকআপ থামিয়ে এর চালক মো. ইয়াছিনকে মারধর করে গাড়িটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুই ব্যক্তি। চালকের চিৎকার শুনে সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সার্জেন্ট মো. ইসরাফিল হোসেন ও এটিএসআই আমির ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা একজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অপরজন পালিয়ে যায়। আটক রায়হানের দেহ তল্লাশি করে তার প্যান্টের পকেটে থাকা একটি কৌটা থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক রায়হানের বাবার নাম মো. শুকুর মিয়া। তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার এরশাদ নগর এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক রায়হানকে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই সুমনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী ইপিজেডের মালামাল পরিবহনের জন্য প্রায় ৩৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ। উদ্বোধনের সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এই রেলপথে এখনো কোনো বাণিজ্যিক ট্রেন চলেনি। দু-একবার শান্টিংয়ে খালি মালবাহী ওয়াগন ও রেল কর্মকর্তাদের মোটরট্রলি চলাচল ছাড়া নিয়মিত কোনো কার্যক্রম নেই। ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথটির বিভিন্ন অংশ এখন কাশবন, ঘাস, লতাপাতা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথ ও রূপপুর রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির নির্মাণকাজ চলে। ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন থেকে ঈশ্বরদী জংশন হয়ে রূপপুর পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হয়। এর সঙ্গে ‘রূপপুর’ নামে একটি আধুনিক রেলস্টেশনও নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ১৩টি লেভেল ক্রসিং, সাতটি বক্স কালভার্ট এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগের জন্য কম্পিউটারভিত্তিক কালার লাইট সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। সব মিলিয়ে এ প্রকল্পে ব্যয় হয় ৩৩৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। নির্মাণের সময় বলা হয়েছিল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল রেলপথে আনা-নেওয়া করা হবে। পাশাপাশি ঈশ্বরদী ইপিজেডের পণ্য পরিবহনের জন্যও এই রেলপথ ব্যবহার করা হবে। সম্প্রতি রূপপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাকশীর পদ্মা নদীর তীরঘেঁষা আধুনিক এই স্টেশনটি প্রায় জনশূন্য। কেবল রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্ল্যাটফর্মে ময়লা জমে আছে। টিকিট কাউন্টার, মালামাল বুকিং কক্ষ, অতিথিশালা, ভিআইপি কক্ষ, প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার, স্টেশন মাস্টার ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের কক্ষসহ অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ। স্টেশনে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য ঢাকা এক্সপোজকে জানান, স্টেশন থেকে বের হওয়ার রাস্তা হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচ দিয়ে গেছে। ওই পথ দিয়ে ভারী মালামাল আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই মালামাল লোড-আনলোডের কার্যক্রম শুরু হয়নি। রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই রেলপথে প্রয়োজন অনুযায়ী মোটরট্রলি চালানো হয়। রূপপুর স্টেশনের ইয়ার্ডে রেলের নতুন কিছু ওয়াগন ও কোচ রাখা হয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত এসব কোচ ও ওয়াগন স্থান সংকুলান এবং নিরাপত্তার কারণে এখানে রাখা হয়েছে। তবে রূপপুর প্রকল্পের জন্য এখনো এই রেলপথ দিয়ে নিয়মিত কোনো মালামাল পরিবহন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা এক্সপোজকে জানান, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত এই রেলপথ ব্যবহার শুরু করা উচিত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় রেললাইন ও আশপাশের এলাকায় আগাছা-লতাপাতা বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে এক ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়া ঢাকা এক্সপোজকে জানান, এখনো এ রেলপথে বাণিজ্যিকভাবে কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম ঢাকা এক্সপোজকে জানান, রূপপুর প্রকল্পের জন্যই এ রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষই এটি ব্যবহার করবে। এখন হয়তো ব্যবহার হচ্ছে না, কিন্তু ভবিষ্যতে রূপপুর প্রকল্পের কাজে এর অনেক বেশি ব্যবহার হতে পারে।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে। তবে নিহত শিক্ষকের স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থীর মরদেহে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে বীর্য পাওয়ার যে বিষয়টি সামনে এসেছে, সেটিও মরদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। তিনি বলেন, আসামিদের পুলিশের কাছে দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অনেক বিষয় আরও স্পষ্ট হয়েছে। ময়নাতদন্তের যে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, তাতে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আবদুল মাবুদ বলেন, নিহতদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, তাদের ভ্যাজাইনাল সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে সেখানে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধ বা অ্যাসফিক্সিয়ার ক্ষেত্রে মরদেহে কিছু শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। এ সময় বীর্য, মলমূত্র বের হয়ে আসতে পারে। ময়নাতদন্তে যে বীর্যের কথা এসেছে, সেটি মরদেহের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার অংশ। এটি বাইরের কোনো ব্যক্তির বীর্য নয়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় একজন ডোমের বক্তব্য নিয়ে যে কথা প্রচার হয়েছে, সেখানেও মরদেহ থেকে বীর্য বের হওয়ার কথা বলা হয়েছে। শ্বাসরোধের ক্ষেত্রে গলায় ফাঁসের চিহ্ন এবং চোখ কিছুটা বেরিয়ে আসার মতো শারীরিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এসব বিষয়ও স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গের এক ডোমের বক্তব্য একটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ডোমের দাবি ছিল, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীর শরীরেও ধর্ষণের আলামত ও বীর্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি ভ্যাজাইনা ও বীর্যের নমুনা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বাবলু কিশোর বিশ্বাস বলেন, মরদেহের পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনাতেও ধর্ষণের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তকারী এই চিকিৎসক বলেন, মরদেহগুলোতে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চারটি মরদেহের গলায় দাগ ছিল। কোনো কোনো মরদেহের বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে এসব আঘাত মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট নয়। বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানান, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর অনেক দেরিতে তাদের কাছে আসায় সেগুলো পচনের পর্যায়ে গিয়েছিল। চারজনেরই মৃত্যু শ্বাসরোধে হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মুখ কালো হয়ে যাওয়ার পেছনে কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বার্ন ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মরদেহের মুখ কেমিক্যাল দিয়ে ঝলসানো হয়নি। ডা. বাবলু কিশোর জানান, এটি পচন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। শরীরের যে অংশ উন্মুক্ত থাকে, সাধারণত সে অংশ আস্তে আস্তে কালো হয়ে যায় এবং পুরো শরীরও পচন প্রক্রিয়ায় কালো হয়ে যায়। এতে কোনো অ্যাসিডে ঝলসানোর বিষয় নেই। প্রসঙ্গত, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। ওই দিন বিকেলে নিহত চারজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর দখিগঞ্জ শ্মশানে তাদের শেষকৃত্য হয়। রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতে আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে আলোচিত এ মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে বদলে গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি জিনাত আলী এ মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা।
বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ পিস ইয়াবাসহ মারুফ হাসান বাবু (৩৫) নামে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার মাঝিড়া বন্দরের কালিবাড়ী রোডে তাঁর মালিকানাধীন বিলাসী মেডিসিন স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মারুফ উপজেলার চক চোপিনগর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, মাঝিড়া কালিবাড়ী রোডে একটি ওষুধের দোকানের সামনে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। পরে জেলা ডিবির উপপরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মারুফ পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেহ তল্লাশি করে পরনের প্যান্টের সামনের ডান পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ৪৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ডিবির দাবি, উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ৪ দশমিক ৫ গ্রাম। পুলিশের দাবি, মারুফ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বগুড়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন। ঘটনার দিনও বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা নিয়ে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এদিকে স্থানীয়ভাবে মারুফকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও ছবিতেও জামায়াতে ইসলামীর একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি দেখা গেছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে মারুফের সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন চোপিনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. সালেকুর রহমান। তিনি বলেন, মারুফ জামায়াতে ইসলামীর কোনো শাখায় কখনো সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন না এবং বর্তমানে তাঁর কোনো দায়িত্বও নেই। তাঁকে জামায়াতের নিয়মিত কোনো কর্মসূচিতেও সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। তবে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কিছু কর্মসূচিতে শ্রমিক কল্যাণ শাখার পক্ষ থেকে তাঁকে দেখা গেছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, ইয়াবাসহ আটক মারুফ হাসানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাজাহানপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।a
হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে মুখর হয়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম নগরী। ভোর থেকেই নগরের ষোলশহর ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ৫৫তম ‘জশনে জুলুস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে গত বছরের জশনে জুলুসে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার কারণে এবার শুরু থেকেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজকদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের জশনে জুলুস। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরের ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা-সংলগ্ন আলমগীর খানকা-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া থেকে জুলুসের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাখো মানুষ অংশ নেন। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) এ জুলুসের প্রবর্তন করেন। এবারের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আকিব আহমেদ শাহ। ভোর থেকেই নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ জুলুসে অংশ নিতে ষোলশহর এলাকায় জড়ো হন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে আসেন। জুলুসের সঙ্গে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত ও দরুদ শরিফের সুর। জুলুস উপলক্ষে মুরাদপুর থেকে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা পর্যন্ত বসে ভাসমান মেলা। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি, শরবত ও খাবার বিতরণ করা হয়। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়ক বিভাজক সাজানো হয় তোরণ, পতাকা, ফেস্টুন ও ব্যানারে। জুলুসের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনজুমান ট্রাস্টের প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয় অস্থায়ী শৌচাগার। নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ষোলশহর থেকে জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে জুলুস ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে জশনে জুলুস ঘিরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জুলুসের পথে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও। গত বছর জশনে জুলুসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জুলুস চলাকালে পদদলিত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। ওই ঘটনার পর এবার জুলুস ঘিরে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে এবার কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, জশনে জুলুস লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেষ হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশের প্রস্তুতি ছিল।