নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৩ এ.এম
অনলাইন সংস্করণ

হাইওয়ে হলে কি থেমে যাবে ভোলা-বরিশাল সেতুর স্বপ্ন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৩ এ.এম
হাইওয়ে হলে কি থেমে যাবে ভোলা-বরিশাল সেতুর স্বপ্ন?

 মোঃ হৃদয় || নিজস্ব প্রতিনিধ

নতুন সড়ক রুটে ভোলা যুক্ত হবে জাতীয় মহাসড়ক নেটওয়ার্কে, তবে সরাসরি বরিশালের সঙ্গে সেতুর দাবি জোরালো; ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে নতুন হিসাব

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করতে বরিশালের রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভোলা-বরিশাল সেতু। ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনটি প্রস্তাবের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত এই রুটটি বেছে নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন এবং প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। প্রস্তাবিত মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে ভোলা সরাসরি বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তের পরই ভোলার মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি নতুন করে সামনে এসেছে বরিশালের সঙ্গে সরাসরি ভোলা-বরিশাল সেতু। কারণ নতুন মহাসড়ক ভোলাকে সড়ক যোগাযোগে যুক্ত করলেও সেটি রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলায় পৌঁছাবে। অন্যদিকে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতুর উদ্দেশ্যই হলো কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে বরিশাল-ভোলা সড়কে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। ফলে নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের পর এই সেতুর প্রয়োজনীয়তা কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সরকারি নথিতে অবশ্য এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই যে মহাসড়ক নির্মিত হলে ভোলা-বরিশাল সেতু বাতিল হবে। বরং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেতু প্রকল্পটি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিগত অনুমোদনও পেয়েছে।

নতুন মহাসড়কে কী আছে

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে। প্রয়োজন হবে তিনটি ছোট সেতুরও। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা দ্রুত যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রুট বাস্তবায়িত হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে এবং যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে। একই সঙ্গে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জও বড় সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, রহমতপুর থেকে মীরগঞ্জ-মুলাদী সেতু হয়ে হিজলা পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিলোমিটার, হিজলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ হয়ে ভোলাসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদী পার হয়ে ভোলা পর্যন্ত আরও প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ যুক্ত হতে পারে। সব মিলিয়ে পুরো করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার হওয়ার প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। তবে এই ৮০ কিলোমিটারকে বরিশাল-ভোলা সরাসরি দূরত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি রহমতপুর থেকে ভোলা পর্যন্ত প্রস্তাবিত করিডরের দৈর্ঘ্য। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভোলা-বরিশাল সেতুর সঙ্গে তুলনা করতে হলে একই সূচনাবিন্দু ও গন্তব্য ধরে সময়, দূরত্ব এবং ব্যয়ের হিসাব করতে হবে।

১০.৮৬৭ কিলোমিটারের সেতু

ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পের সরকারি নথিতে প্রস্তাবিত সেতুর অবস্থান কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে বরিশাল-ভোলা সড়কে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আগে করা হয়েছিল এবং পরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের অংশ হিসেবে তা পুনরায় যাচাই করা হয়। হালনাগাদ খসড়া প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হয়।

প্রকল্পের প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য ১০ দশমিক ৮৬৭ কিলোমিটার। সড়ক ও সেতুসহ পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৬ দশমিক ৩৬৭ কিলোমিটার। এটি চার লেনের সেতু হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এত বড় ব্যয়ের কারণে এটি শুধু ভোলার যোগাযোগ প্রকল্প নয়; দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো পরিকল্পনারও একটি বড় অংশ। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

থেমে নেই সেতু প্রকল্পের প্রক্রিয়া

ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, নতুন মহাসড়কের সিদ্ধান্তের পরও সেতু প্রকল্পটি সরকারি প্রক্রিয়া থেকে বাদ যায়নি। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে অনুষ্ঠিত সপ্তম প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থায় সেতুটিকে বাতিল প্রকল্প বলা যাবে না। বরং এটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন ও কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

এর বাইরে জাপানি বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও সামনে এসেছে। জুলাইয়ে জাপানের মিয়াগাওয়া কেনসেতসু কনস্ট্রাকশন কোম্পানিকে ঘিরে ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর—দুটি সেতু প্রকল্পে প্রায় ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়। সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ একদিকে নতুন মহাসড়কের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে সেতু প্রকল্পে পিপিপি অনুমোদন ও বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ দুটি প্রক্রিয়াই একই সময়ে এগোচ্ছে। ফলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এই দুই অবকাঠামোকে কীভাবে একই যোগাযোগ পরিকল্পনার মধ্যে রাখবে।

ভোলাবাসীর আপত্তি কোথায়

নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ২৫ আগস্ট ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ভোলাবাসী’। সংগঠনটি মহাসড়কের বিরোধিতা না করলেও সরাসরি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের সদস্যসচিব মীর মোশারেফ অমি বলেন, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের উন্নয়নের বিরোধিতা তাদের নয়; তবে ভোলার মানুষের সময়, দূরত্ব, ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় কোন পথে দ্রুত, সরাসরি, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও ভবিষ্যৎমুখী যোগাযোগ নিশ্চিত হবে, তা তথ্য ও প্রকৌশলগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা দরকার।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে। ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু, লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট এবং রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুট এই তিনটির দূরত্ব, সময়, নির্মাণ ব্যয়, সেতুর সংখ্যা, পরিবহন ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল তুলনা করে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।

এ দাবি শুধু আবেগনির্ভর নয়; প্রকল্প পরিকল্পনার দিক থেকেও এর গুরুত্ব আছে। কারণ নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের আগে সরকার যদি একই গন্তব্যের বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তুলনা করে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আরও স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক হবে।

ভোলার জন্য শুধু রাস্তা নয়, অর্থনীতির প্রশ্ন

ভোলা দেশের একটি বড় দ্বীপ জেলা। জেলার অর্থনীতিতে কৃষি, মৎস্য, গ্যাস ও পর্যটনের ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের বক্তব্য, ভোলার ইলিশ, তরমুজ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য সড়কপথে দ্রুত দেশের বড় বাজারে পাঠানো গেলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খাঁনও সড়ক যোগাযোগ তৈরি হলে কৃষিপণ্য ও মাছ দ্রুত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন।

ভোলার অর্থনীতিতে গ্যাসও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা। জেলার গ্যাসসম্পদকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু শিল্পায়নের জন্য শুধু জ্বালানি বা কাঁচামাল থাকলেই হয় না; প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা। ভারী শিল্পের কাঁচামাল আনা, উৎপাদিত পণ্য দেশের বাজারে পাঠানো এবং বিনিয়োগকারীদের দ্রুত যাতায়াত সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

এই জায়গায় নতুন মহাসড়কের বড় সুবিধা রয়েছে। এটি শুধু ভোলাকে যুক্ত করবে না; হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জকেও সড়ক নেটওয়ার্কে নিয়ে আসবে। ফলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ভোলা থেকে বরিশাল শহরের সরাসরি যোগাযোগের প্রশ্নে সেতুর সুবিধা আলাদা। এ কারণে দুটি প্রকল্পের অর্থনৈতিক সুবিধা একই সূচকে বিচার না করে আলাদা ও সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

‘হাইওয়ে নাকি সেতু’ মূল প্রশ্ন এখানেই

সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা আসেনি যে নতুন মহাসড়ক নির্মাণ হলে ভোলা-বরিশাল সেতু বাতিল হবে। বরং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য বলছে, সেতুটি প্রক্রিয়াধীন প্রকল্প এবং পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, একই অঞ্চলে বড় দুটি যোগাযোগ প্রকল্প এগিয়ে নিতে হলে সরকারের সামনে অর্থনৈতিক প্রশ্ন থাকবেই। নতুন মহাসড়ক যদি ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করে এবং একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করা হয়, তাহলে দুটি করিডরের মধ্যে যানবাহন প্রবাহ কীভাবে ভাগ হবে তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা দরকার। একইভাবে দুটি প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ কত হবে, কত সময় সাশ্রয় হবে, পণ্য পরিবহনে কী সুবিধা হবে এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদে বেশি অর্থনৈতিক সুফল দেবে এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দুটি প্রকল্পকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখারও কারণ নেই। নতুন মহাসড়ক হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পারে, আর ভোলা-বরিশাল সেতু বরিশাল ও ভোলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করতে পারে। দুটি পথ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে। কোনো একটি পথে দুর্যোগ, দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে অন্য পথ ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে। তাই প্রশ্নটি শুধু ‘কোন প্রকল্পটি হবে’ নয়; বরং ‘দুটি প্রকল্পের ভূমিকা কী হবে’ সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এখন যে হিসাবটি প্রকাশ করা দরকার

নতুন মহাসড়কের সিদ্ধান্তের পর সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে তিনটি রুটের পূর্ণাঙ্গ তুলনামূলক সমীক্ষা। ভোলা-বরিশাল সরাসরি সেতু, লাহারহাট-ভেদুরিয়া রুট এবং রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা রুট প্রতিটির দূরত্ব, সময়, নির্মাণ ব্যয়, নদী পারাপারের সংখ্যা, সেতুর প্রয়োজনীয়তা, যানবাহন পরিচালন ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল একসঙ্গে হিসাব করা হলে প্রকল্প বাছাইয়ের ভিত্তি আরও পরিষ্কার হবে। ‘আমরা ভোলাবাসী’ও ঠিক এই ধরনের তথ্যভিত্তিক সমীক্ষা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

কারণ প্রায় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতু এবং প্রায় ৮০ কিলোমিটারের একটি নতুন মহাসড়ক দুটিই বড় অবকাঠামো বিনিয়োগ। কোনোটির ক্ষেত্রেই শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রকৌশলগত বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং ভবিষ্যৎ যানবাহনের চাপের হিসাব।

ভোলার সামনে এখন নতুন সম্ভাবনা, নতুন প্রশ্ন

ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার সিদ্ধান্তে জেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট কাটানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন রুটে সড়ক প্রশস্তকরণ, নতুন সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলা, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীও প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্তু এই নতুন সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতুর ভবিষ্যৎও এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ সেতুটি শুধু ভোলার একটি পুরোনো দাবি নয়; সরকারি নথিতে এটি এখনো প্রক্রিয়াধীন, পিপিপি বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহও রয়েছে।

ফলে এখনই বলা যাবে না যে হাইওয়ে হলে ভোলা-বরিশাল সেতু আর হবে না। তবে এটাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে সেতুটির প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য যানবাহন প্রবাহ ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নতুন করে হিসাব করতে হবে।

ভোলার মানুষ তাই যে প্রশ্নটি তুলছে, তার উত্তর শুধু ভোলার জন্য নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দীগঞ্জ–ভোলা মহাসড়ক কি ভোলা-বরিশাল সেতুর বিকল্প, নাকি দুটিকে সমন্বিত করেই তৈরি হবে আগামী দিনের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক?

সরকার যদি এই প্রশ্নের উত্তর তথ্য-উপাত্তসহ স্পষ্ট করে এবং দুই প্রকল্পের তুলনামূলক কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করে, তাহলে বিতর্কের বদলে তৈরি হতে পারে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত যোগাযোগ পরিকল্পনা। কারণ ভোলার প্রয়োজন শুধু দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একটি সংযোগ নয়; প্রয়োজন এমন যোগাযোগব্যবস্থা, যা কৃষি, মৎস্য, গ্যাস, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল সবকিছুকে আগামী কয়েক দশকের জন্য আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর করে।

1
দেড় বছরের ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কেনা সেই বাবাকে আটক
2
৩ ফুট করে খোলা হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট
3
শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় রায় আজ
4
২০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করলো বিসিএস প্রশাসনের ২৫ তম ব্যাচ
5
বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের পরও থামেনি লড়াই, গোবিপ্রবি শিক্ষকের চিকিৎসায় প্রয়োজন ২৫ লাখ টাকা
6
হাইওয়ে হলে কি থেমে যাবে ভোলা-বরিশাল সেতুর স্বপ্ন?
7
নারী সহকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ, সিদ্ধান্তেও বরখাস্ত নন
8
৬৩৬৬ কোটি টাকা খরচ করেও টটেনহ্যামের সংকট কাটছে না
9
বাড়বে বৃষ্টি, কমবে গরম
10
তারেক রহমানের সঙ্গে যুবদল সম্পাদক নয়নের সাক্ষাৎ
11
রাজনীতিমুক্ত গণ বিশ্ববিদ্যালয়: ক্যাম্পাসজুড়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ
12
কুর্মিটোলা হাসপাতালে আনসারের তৎপরতায় হারানো শিশু উদ্ধার
13
আজকে যে অর্জন, তা শহীদদের সর্বোচ্চ ত্যাগেরই ফসল: প্রধানমন্ত্রী
14
মামলার রায়ে এআই ব্যবহার করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি
15
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
16
সংকটাপন্ন মায়ের জীবন বাঁচাতে আনসার সদস্যের রক্তদান
17
হাতিরঝিলে চুরির চেষ্টা, আনসারের হাতে আটক ১
18
বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ বেড়ে প্রায় ৩ হাজার
19
৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত,বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ
20
নেপালে আটকা পড়া ‘শিকার’ টিম, নিরাপদে ফিরছেন দেশে
আমার এলাকার সংবাদ