ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) আবাসিক ৩ নং হলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হলের অন্তত তিন শিক্ষার্থী সরাসরি স্থানীয় মাদক চোরাচালানের সাথে জড়িত। এমনকি এই চক্রের পেছনের কলকাঠি নাড়ার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের নামও উঠে এসেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ নং হল থেকে নিয়মিত ইয়াবা ও গাজাসহ বিভিন্ন মাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাগুলোতে সাপ্লাই দেওয়া হয়। অতীতে এই হল থেকেই ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও মেশিন উদ্ধার করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে মূল কারিগররা বারবারই থেকে যাচ্ছে ধোঁয়াশার আড়ালে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে তাকে নানাভাবে হয়রানি, হুমকি এবং র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়। ফলে ভয়ে তটস্থ থাকেন তারা। হলের অনিরাপদ ও আতঙ্কময় পরিবেশ থেকে বাঁচতে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে হল ছাড়তে হয়।
হল ছেড়ে দেওয়া এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, "আমরা পড়ালেখার পরিবেশ আর নিরাপত্তার জন্য হলে এসেছিলাম। কিন্তু হলের ভেতরে কিছু ব্যক্তির মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা পুরো পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। প্রশাসন চেষ্টা করলেও মূল হোতাদের ধরতে পারে না। বাধ্য হয়ে নিজেদের সুরক্ষায় আমরা বাইরে মেসে চলে এসেছি।
হলে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন যখন অভিযান পরিচালনা করে, কিছুদিন পরিবেশ ভালো থাকে। কিন্তু কিছুদিন পর গোপনে আবার সেই অপকর্ম চালু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক চক্রটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে এই চক্রকে দমন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দৈবচয়নের ভিত্তিতে নিয়মিত বিরতিতে হলে অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদকমুক্ত করতে এবং জড়িতদের হাতেনাতে ধরতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু একাধিকবার অভিযান ও তল্লাশি চালিয়েও চতুর এই মাদক চোরাচালান চক্রটির মূল হোতারা অধরাই রয়ে গেছে।