মৎস্য খাতে সরকারের বাজেটের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।
বুধবার (৬ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে মৎস্যখাতে ‘বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের ৫ম তলায় সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মৎস্য খাতে সরকারের বাজেট, উন্নয়ন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বাজেটের যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, মৎস্য অভয়াশ্রম সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষাকেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও আগ্রহ নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্যখাতে প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক তরুণ মৎস্য উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। তাদেরকে তদারকি করার জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান তিনি। সমবায় ভিত্তিক মৎস্য চাষ, খালখনন কর্মসূচির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি সরকারি বাজেটের সঠিক, কার্যকর ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২০ কোটি মানুষের আমিষের যোগানের মৎস্য অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বৈচিত্র্যময় রপ্তানি বৃদ্ধি এবং মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করা এবং সরকারের গৃহীত উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্যখাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে অধিক উৎপাদন ও আয় নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি মৎস্য অভয়াশ্রম সংরক্ষণ, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।