ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) তিন সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগে মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন নামের এক শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে শোকজ প্রাপ্তির পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা তথা আজ বিকেল ৫টার মধ্যে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে অভিযুক্তকে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদকের হাতে আসা নথি এবং প্রক্টরিয়াল বডির এক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এ ঘটনায় তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
এদিকে, শোকজে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব প্রদান করতে ব্যর্থ হলে বিষয়টি ‘আপনার কোনো বক্তব্য নেই’ হিসেবে বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লিখিত জবাবে উক্ত ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য, ব্যাখ্যা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাতে আসা নথিতে দেখা গেছে, অভিযুক্ত মো. মাহিন অর রশিদ প্লাবন রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার পশ্চিম অন্তরাম অংশের বাসিন্দা মো. মাহবুব অর রশিদ পলাশ এবং মোছা. মাহমুদা বেগমের সন্তান। সে বিশ্ববিদয়ালয়ের ৬০ তম ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী৷ যার রোল নং -৩৮৷
জানা গেছে, এর আগেও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর আত্মীয় পরিচয়ে একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীকে হুমকি দিয়েছেন। অবশ্য তার আত্মীয়তার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নিজেই।
দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্লাবন নামের এই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপথগামী কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘গ্যাং থার্টি সিক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী পরিচালনা করে আসছেন। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর র্যাগিংয়ের একাধিক অভিযোগ এসেছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল খায়ের বলেন, ‘আমার সহযোদ্ধা, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীদের ওপর তার এই প্রাণনাশের হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর হুমকিস্বরূপ।’
সাংবাদিক সমিতির এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনি এ ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করা তার প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করেছে।’
তিনি বলেন, ‘শুধু নামকাওয়াস্তের এই শোকজ দিয়ে এই বিষয়ে কখনোই সুরাহা সম্ভব নয়। আমরা আইনগত বিষয়ে অগ্রসর হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য সাময়িক বহিষ্কার, হলের সিট বাতিল এবং জরিমানা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বিষয়টি পুরোপুরি আইনগতভাবেই মোকাবিলা করা হবে।’