বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানো, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা খানম। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগে থ্যালাসেমিয়ার বাহক শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালুর বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইদেশি) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য, টিকাদান ও গবেষণা প্রকল্পের সূচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এই রোগে আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি রোগটির বিস্তার প্রতিরোধে আমাদের আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, আইদেশির গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এ তথ্য উদ্বেগজনক হলেও সচেতনতা, সময়মতো শনাক্তকরণ এবং যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
ফরিদা খানম বলেন, ‘দুজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক বিয়ে করলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই পরিবার গঠনের আগে নিজের থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার আগে বাহক শনাক্তকরণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ রোগের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে শুধু স্বাস্থ্যখাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জনস্বাস্থ্য ও গবেষণায় আইদেশির বিভিন্ন উদ্যোগ
সূচনা সভায় আইদেশি ফাউন্ডেশনের চলমান ও নতুন বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য, টিকাদান ও গবেষণা প্রকল্পের লক্ষ্য, কার্যক্রম এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সভায় সাধারণ পরিচালন সহায়তা, বাংলাদেশে এইচপিভি টিকা গ্রহণে জনসচেতনতামূলক বার্তার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ, টাইফয়েডের সংযুক্ত টিকা সহজলভ্য ও সবার নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবডিনির্ভর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সংক্রামক রোগের পরীক্ষাগারবিষয়ক জাতীয় জনস্বাস্থ্য কৌশলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এসব প্রকল্পের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা জোরদার, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় আইদেশি আয়োজিত থ্যালাসেমিয়া সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। এ সময় থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো, বাহক শনাক্তকরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতা একটি সুস্থ ও সক্ষম জাতি গঠনের অন্যতম ভিত্তি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।’