একজন জননতো অ্যাডভোকেট আব্দুর রইছ

 

মোঃইমাদ উদ্দিন আকাশ

 

বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম  রাষ্ট্র হিসেবে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।আর এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরার পিছনে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন একদল সাহসী সংগঠক।তাদেরই একজন প্রয়াত জননতো অ্যাডভোকেট আব্দুর রইছ সাহেব।অ্যাডভোকেট আব্দুর রইছ শুধু একটি নাম নয়,একটি ইতিহাসও বটে।তিনি ছিলেন স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭০সালের প্রাদেশিক পরিষদ ও গণপরিষদের অন্যতম সদস্য, এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৩ সালের সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রথম সাংসদ।শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় তিনি একাধারে ছিলেন একজন সজ্জন আইনজীবী।ভাটির কাদাঁমাটি গায়ে মেখে উত্তাল হাওড়ের বিশালতার মধ্যে বেড়ে উঠা এই ব্যক্তি তার জীবনের প্রায় সবঠুকু সময় ব্যয় করেছেন হাওর অঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে।জীবনের শেষ অংশে এসেও তিনি কাজ করেছেন হাওর অঞ্চলের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত গণমানুষের কল্যাণে।তার এই কৃতকর্মের মধ্যদিয়েই তিনি হাওর অঞ্চলের মানুষের নিকট হয়ে উঠেছিলেন একজন গণমানুষের নেতা জননেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রইছ।১৯৩১ সালের ১লা মে

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।ছাত্রজীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন প্রয়াত এই রাজনীতিবীদ।শিক্ষকতায় থাকাবস্থায় এলএলবি পাস করে সুনামগঞ্জ

আইনজীবি সমিতিতে যোগদেন।এবং আইন পেশায় সক্রিয় হন।১৯৬৯সালে আওয়ামীলীগে যোগদিয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন।এবং সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামীলীগের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্বপালন করেন। এছাড়াও তিনি জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের

সভাপতি ও জগন্নাথপুর মুক্তিসংগ্রাম আন্দোলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।১৯৭০সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও গণ পরিষদেও সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহন করে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।পাক হানাদারের হাত থেকে বাংলাকে রক্ষার সংকল্পে ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সুনামগঞ্জের দক্ষ সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। পাক হানাদার

বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে এদেশের সকল শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জগন্নাথপুর তথা সুনামগঞ্জ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের একজন দক্ষবীর সৈনিকের দায়িত্ব পালন করে পুরো জেলাকে শক্রমুক্ত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন তিনি। ১৯৭৩সালে জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ আসন থেকে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুনামগঞ্জ জেলা বারের সভাপতি নির্বাচিত হন।১৯৮৮ সালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।আমৃত্য তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন এবং জনগনের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর ঐতিহাসিক কর্মজীবন ব্যাপকভাবে আলোচিত হোক। তাঁর কর্মযজ্ঞ ধারণ করা হোক রাজনীতি, সাহিত্য, সংস্কৃতির বড় বড় ক্যানভাসে। তিনি অমর হয়ে থাকবেন হাওর অঞ্চলের মানুষের মণিকোঠায়।তার এই গৌরবোজ্জ্বল কৃতকর্মই তাকে বাঁচিয়ে রাখবে যুগ থেকে যুগান্তরে।

Share Button

     এ জাতীয় আর খবর